
দেশের গণমাধ্যমে এখনও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শব্দচয়নের ব্যবহার সীমিত। অনেক সময় শুধুই প্রতিবন্ধী বলা হয়, আর শারীরিক বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে পঙ্গু, অন্ধ ইত্যাদি নেতিবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সমতার বাংলাদেশ গঠনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক সংলাপে এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোকপাত করা হয়।
সংলাপে বক্তারা জানান, গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবাধিকারের প্রেক্ষাপট থেকে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় আসনের দাবি জানান।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের আয়োজনে এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও সাইটসেভার্সের ইকুয়াল বাংলাদেশের সহযোগিতায় সংলাপ অনুষ্ঠানে বি-স্ক্যান -এর সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, প্রতিবন্ধীতা নিয়ে শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যম অনেক পিছিয়ে আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করতে গেলে প্রথমেই বুঝতে হবে, প্রতিবন্ধিতা কী। যদি ধারণা স্পষ্ট থাকে, কাজ করা সহজ হবে।
সাইটসেভার্স- এর ক্যাম্পেইন অ্যাডভাইজার অয়ন দেবনাথ বলেন, ‘যদি একটি ভবনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেতে না পারে, তাহলে সমস্যা ভবনের, ব্যক্তির নয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার মানবাধিকার। সমাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইউএনডিপি’র নির্বাচনী সহায়তা ব্যালট/ড্রিপ প্রকল্পের আন্দ্রেজ দেল ক্যাস্তিলো সানচেজ বলেন, নির্বাচন অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন সবার মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
সংলাপে আরও আলোচিত হয়েছে যে, বাংলাদেশে অধিকাংশ স্কুল, অফিস ও সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়, ফলে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাদের মৌলিক অধিকার পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেন না। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে থাকে।
বক্তারা বলেন, যদি একজন মানুষও থাকে, তাকে পূর্ণাঙ্গ অধিকার দিতে হবে।
বক্তারা প্রতিবন্ধিতাকে মানববৈচিত্র্য ও অধিকারের অংশ হিসেবে তুলে ধরার জন্য বিশেষভাবে গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান। তারা মনে করেন, এতে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ভেঙে যাবে এবং নীতি-পরিকল্পনা ও জনমনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংলাপে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অমৃতা রেজিনা রোজারিও, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সাইটসেভার্স এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন অসীম ডিও, নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট, ইউএনডিপি।