টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামীন পানি সমিতির লোহার পাইপ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:১১ পিএম

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়ন গ্রামীন পানি সমিতির মালিকানাধীন পুরাতন লোহার পাইপ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী কোনো ধরনের খোলা নিলাম বা টেন্ডার (দরপত্র), মাইকিং অথবা কোন বিজ্ঞাপন ছাড়াই মাত্র একজন ক্রেতার কাছে পাইপগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানির প্ল্যান্টের কর্মচারী জানান, পাইপগুলো পুরাতন হলেও এর সর্বনিম্ন বাজারমূল্য কমপক্ষে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু কী দামে এবং কী প্রক্রিয়ায় বিক্রি করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

পাইপ বিক্রির বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমরা জানি সরকারি কোন মালামাল নিলাম অথবা মাইকিং ছাড়া বিক্রি হয় না। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে থেকেও কোন মাইকিং, খোলা নিলাম অথবা টেন্ডার(দরপত্র)কথা জানতে পারিনি।

আরও পড়ুন : সীমান্তে বহির্গমন প্রতিরোধে বুড়িমারী আইসিপিতে দিবা-রাত্রী বিশেষ টহল

এ বিষয়ে পানি সমিতির সভাপতি পাটগাতি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুবাষ বিশ্বাস বলেন, সকল সদস্যের স্বাক্ষরের মাধ্যমে রেজুলেশন করে ৬০ হাজার টাকায় পাইপ বিক্রি করা হয়েছে। অথচ তিনি জানেনই না কত ইঞ্চি পাইপ বিক্রয় করা হয়েছে এবং কত পিস ছিল। তিনি দাবি করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে জানিয়ে পাইপ গুলো বিক্রি করা হয়েছে।

তবে পানি সমিতির সদস্য সচিব ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, আমরা এভাবে বিক্রি করে ভুল করেছি, এটা আইন সংগতভাবে বিক্রি করা হয়নি।

পানি সমিতির বিল ক্লার্ক আমজাদ হোসেন বলেন, বিজ্ঞাপন দিয়েই পাইপ বিক্রি করা হয়েছে। তার কাছে রেজুলেশন এর কপি এবং বিজ্ঞাপনের পত্রিকার কপি দেখতে চাইলে তিনি বলেন এগুলো আমি দেখাতে বাধ্য নয়, আপনারা প্রয়োজনে নিউজ করেন। এছাড়া আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পানির লাইনের সংযোগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

পাইপ বিক্রি প্রসঙ্গে পানি সমিতির সদস্য নজরুল শেখ অভিযোগ করে বলেন, আমি কোনো রেজুলেশনে স্বাক্ষর করিনি। পাইপ বিক্রিতে স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে।”

আরও পড়ুন : ভারতে করাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল মা-ছেলে

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, গ্রামীণ পানি সমিতির উপদেষ্টা প্রদীপবাবু জানান,রেজুলেশন করে পাইপ বিক্রি করা যায়। পাইপগুলো আমাকে জানিয়ে বিক্রি করেছে। তবে সকল সদস্য যদি রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর না করে দ্বায়ভার সমিতির।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বিষয়ে বলেন, সরকারি কোনো জিনিস বিক্রি করতে হলে অবশ্যই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর মাধ্যমে পাইপগুলো এনে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার ব্যবস্থা করব।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft