
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতি হামলার পর এবার ল্যাটিন আমেরিকার আরেক দেশ মেক্সিকোতেও হামলা চালানো হতে পারে। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম এরইমধ্যে এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'মাদকপাচার ঠেকাতে মেক্সিকোতে হামলা চালানোর বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি মেক্সিকোর সঙ্গে কথা বলেছি-তারা জানে আমি কী ভাবি।'
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের কারণে 'লাখো মানুষ' মারা যাচ্ছে এবং নৌপথে মাদক পরিবহন ঠেকানো গেলেও অন্যান্য রুট সক্রিয় রয়েছে।
তবে কীভাবে এবং কখন এ ধরনের হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাম এর আগেই স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশের ভেতরে কোনো বিদেশি হামলাকে তিনি সমর্থন করবেন না।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাটিন আমেরিকান স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেফ গারমানি আল–জাজিরাকে বলেন, “মেক্সিকোর আপত্তি ট্রাম্পের কাছে গুরুত্ব পাবে বলে মনে হয় না। আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক প্রোটোকল—এসব ট্রাম্প সাধারণত মানেন না।” তার মতে, ট্রাম্প সত্যিই চাইলে মেক্সিকোর অনুমতি ছাড়াই হামলা চালাতে পারেন।
দুই সপ্তাহ আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোতে যৌথ গোয়েন্দা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে ড্রোন হামলা দিয়ে মাদক ল্যাব ও কার্টেল সদস্যদের লক্ষ্য করা হতে পারে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাম্প এ বিষয়ে ইঙ্গিতও দেন-'আমরা প্রতিটি রুট, প্রতিটি মাদকসর্দারের ঠিকানা জানি'।
ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি 'যুদ্ধের মতো', কারণ মাদক কার্টেল কোকেন, হেরোইন, মেথ এবং ফেন্টানিলের মতো মাদকের মাধ্যমে 'লাখো আমেরিকানকে হত্যা করছে'।
বিশেষজ্ঞ গারমানি বলেন, মেক্সিকোর কার্টেলগুলো বিশ্বের সবচেয়ে সংগঠিত ও শক্তিশালী অপরাধচক্র। তাদের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলা মূলত একটি 'পাবলিক রিলেশনস স্টান্ট' ছাড়া কিছুই হবে না।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০ বছর ধরে মেক্সিকো নিজেই মাদকবিরোধী যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে এবং এখনো কার্টেলগুলো শক্ত অবস্থানে।
জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ও আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কংগ্রেস ছাড়াই সামরিক অভিযান পরিচালনার পথ তৈরি করেছেন। ছয়টি মাদক কার্টেলকে 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে ঘোষণা করার পর এসব হামলাকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে বৈধতা দিচ্ছেন।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানগুলো মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। দাবি, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে অতর্কিত হামলা ন্যায়সঙ্গত নয়।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অন্তত ২০টি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ৮০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলার 'ট্রেন দে আরাগুয়া'–র মতো কার্টেলের সঙ্গে এদের সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ দেখাতে এখনো সক্ষম হয়নি প্রশাসন।
জ/উ