প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ২:৫৮ পিএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ ধারণা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত তার বই ‘এ প্লেস আন্ডার দ্য সান’-এ তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত ভূখণ্ডকে ইহুদিদের ভূমি বলে উল্লেখ করেছিলেন।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মিশনে’ আছেন এবং বৃহত্তর ইসরায়েলের স্বপ্নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মন্তব্যে আরব লীগ, ওআইসি ও জিসিসি-সহ ৩১টি আরব ও ইসলামি দেশ প্রতিবাদ জানায়।
“বৃহত্তর ইসরায়েল” ধারণার সূত্র অনেক পুরনো। ১৮৯৭ সালের বাসেল কংগ্রেস থেকে শুরু করে ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণা এবং ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ পর্যন্ত নানা সময়ে এই স্বপ্ন আলোচনায় এসেছে। ধর্মীয় বর্ণনায় নাইল থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত ভূখণ্ডকেই প্রতিশ্রুত ভূমি বলা হয়।
এমনকি পুরনো মুদ্রায়ও ইসরায়েলের সীমানা বিস্তৃতভাবে আঁকা ছিল যেখানে কুয়েত, ইরাক, মিসর ও সৌদি আরব পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, ইসরায়েলের পতাকার নীল দাগ কিংবা পুরনো মুদ্রাতেও এর প্রতীক পাওয়া যায়। ১৯৭০ সালের পর লিকুদ পার্টির উত্থানে এই প্রতীকী ধারণা বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে অস্বীকারের মাধ্যমে নীতিতে রূপ নেয়।
তবে অনেক গবেষকের মতে, বৃহত্তর ইসরায়েল বাস্তবে সম্ভব নয়। কারণ এতে লাখ লাখ আরব জনগণ যুক্ত হবে, যা ইসরায়েলের জন্য জনসংখ্যাগতভাবে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইসরায়েলি-আমেরিকান লেখক মিকো পেলেড বলেন, ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ আসলে রাজনৈতিক স্লোগান। তার মতে, আসল হুমকি হলো গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা।
তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ, আল জাজিরা
জ/উ