ট্রাইব্যুনালে ৪৫০ গুম-খুনের অভিযোগ, আসামি ২০৯
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ১২:২১ পিএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২৫ ১২:২৩ পিএম

পতিত স্বীরাচার শেখ হাসিনার শাসন আমলে এদেশের বহু রাজনীতিবিদ, আলেম-ওলামা, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। তাৎকালিন সময়ে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভিকটিমরা অভিযোগ করার সাহস পেতেন না। 

এরপর ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী সরকারের সরকারের পতন হয়। এরপর আইন সংশোধন করা হয়। আর নিপীড়নের শিকার সেই সব ব্যক্তি ও তাদের পরিবার দ্বারস্থ হতে থাকেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের কাছে।  

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগসহ গুম-খুন-নির্যাতনের মোট অভিযোগ এসেছে ৪৫০টি। বিবিধ মামলা হয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে চার মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠন করেছেন দুই মামলায়। এর একটিতে সাক্ষী চলমান রয়েছে (শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা)।  

৩০ মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি করা হয়েছে ২০৯ জনকে। এরমধ্যে ৮৪ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। এ ৮৪ জনের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, বিচারপতি, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা রয়েছেন।

সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জুলাই হত্যার বেশ কয়েকটি মামলার বিচার শেষ হবে। গত এক বছরে ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে আমরা মনে করি, এ বছরের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলার বিচার শেষ করা সম্ভব। সে গতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

এ ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনেকের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হয়েছে। তার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আরও কয়েকজনের বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছিল।

এ অবস্থায় সরকার পতনের পর প্রসিকিউটররা পদত্যাগ করেন। তারপর ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর নিয়োগের কথা জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ।

এতে প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পুর্নগঠন করা হয়। আইন সচিব শেখ আবু তাহের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সালের আইন নং ২১)-এর ধারা ৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীকে ওই ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এরপর চলতি বছরে ৮ মে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  আইন আদালত   মামলা   জুলাই গণঅভ্যুত্থান     







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft