প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ৩:১০ পিএম

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়াবহ বায়ু দূষণ রোধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ৬৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। এই অর্থায়নের মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
‘জ্বালানি খাত নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্প’-এ ৩৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় আইডিএ গ্যারান্টির মাধ্যমে আগামী সাত বছরে ২.১ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে এলএনজি আমদানির সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যয়বহুল স্পট মার্কেট নির্ভরতা কমবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পের টিম লিডার ওলাঙ্কা বিসিরিয়ু ইডেবিরি বলেন, “এই উদ্যোগ শিল্প ও গার্হস্থ্য খাতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে ভূমিকা রাখবে।”
‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রকল্প’-এ ২৯০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ঢাকাসহ দেশের দূষিত শহরগুলোতে বায়ুর মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে নতুন ও উন্নত স্টেশন স্থাপন, রিয়েল টাইম দূষণ নিরীক্ষণের জন্য কন্টিনিউয়াস এমিশনস মনিটরিং সিস্টেম (সিইএমএস) চালু, ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালু ও একক অপারেটর মডেল চালু, চার্জিং ডিপো ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো তৈরি এবং ৫টি নতুন যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র নির্মাণ এবং ২০টি মোবাইল নির্গমন ইউনিট মোতায়েন।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আনা লুইসা গোমস লিমা বলেন, “এই প্রকল্প আঞ্চলিক তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, কারণ বায়ু দূষণ কোনো সীমান্ত মানে না।”
বিশ্বব্যাংকের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন বলেন, “জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে এই সমন্বিত পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”