বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
 

বাজার মূলধন হারিয়েছে ৬৪ হাজার কোটি টাকা    খালাস পেয়েছে ইভ্যালির রাসেল-শামীমা    ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বেড়েছে ৪ জুলাই পর্যন্ত    এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরে, সময় ৫ ঘণ্টা    ফিলিস্তিনকে আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও নরওয়ের স্বীকৃতিতে ইসরায়েলের ক্ষোভ     এমপি আনারের হত্যাকারীরা প্রায় চিহ্নিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী    এমপি আনার খুনের ‘হানিট্র্যাপ’ শিলাস্তি রহমান গ্রেপ্তার   
আল্লাহর ওলিদের সঙ্গে শত্রুতার পরিণাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪, ১১:১৪ অপরাহ্ন

ওলি আরবি শব্দ। যার অর্থ বন্ধু, অভিভাবক, নৈকট্য অর্জনকারী। ওলির বহুবচন আওলিয়া। কোরআনুল কারিমের একাধিক স্থানে ওলি ও আওলিয়া শব্দের ব্যবহার হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছ তাদের পরিচয়। পবিত্র কোরআনের এক আয়াতে মহান আল্লাহ ওলিদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে—‘(তারাই আল্লাহর ওলি) যারা ঈমান আনে এবং তাকওয়া (পরহেজগারি) অবলম্বন করে।’ (সুরা ইউনুস: ৬৩) 

বোঝা গেলো- ওলি হওয়ার মানদণ্ড দুইটি। ১. ঈমান ও ২. তাকওয়া। ঈমান ও তাকওয়ায় যে যত উঁচু মাকাম অর্জন করবেন, তিনি বেলায়েতের পথে তত বেশি অগ্রসর হবেন ও তত বেশি আল্লাহর প্রিয় হিসেবে বিবেচিত হবেন।

ঈমান যত বিশুদ্ধ, মজবুত ও পরিপূর্ণ হবে ইবাদত-বন্দেগি, লেনদেন, চলাফেরা, আচার-ব্যবহার, স্বভাব-চরিত্র তত সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে। তাই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সবার আগে ঈমানকে সংরক্ষণ ও তাজা করা জরুরি বিষয়। রাসুল (স.) বলেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে। ১. আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল তার কাছে অন্য সবকিছু থেকে বেশি প্রিয় হওয়া। ২. একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই কাউকে ভালোবাসা। ৩. কুফুরিতে প্রত্যাবর্তন করাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ন্যায় অপছন্দ করা। (বুখারি: ১৬)

শুধু ঈমান থাকলে হবে না, আল্লাহর ওলি হওয়ার জন্য তাকওয়াও জরুরি। পূর্ণ ঈমান ও তাকওয়া এই দুই গুণের সমন্বয়ে একজন মুমিন আল্লাহর ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হন। তাকে কেউ ওলি বলুক বা না বলুক; তার দ্বারা কারামত প্রকাশিত হোক বা না হোক। তবে হ্যাঁ, আল্লাহর ইচ্ছায় কোনো কোনো ওলির কারামত প্রকাশিত হয়ে পড়ে। ওলির কারামতসমূহ নিঃসন্দহে আল্লাহর তরফ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষাস্বরূপ। এবসব কারামত তাদের হক্কানিয়াতের সত্যতা প্রমাণ করে। কিন্তু আল্লাহর ওলি হওয়ার জন্য কারামত শর্ত নয়।

আল্লাহর ওলিদের কমন কিছু বৈশিষ্ট্য হলো- তারা কেয়ামত সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন, গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকেন, বারবার তাওবা-ইস্তেগফার করেন, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করেন, কারো ভুল বা অপরাধের জন্য ক্ষমা করেন, গোপনেও আল্লাহকে ভয় করে চলেন, সত্যাবাদী হন, সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় দান করেন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করেন, আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করেন, ন্যায়পরায়ণ হন, ইলম অর্জনের অনুরাগী হন, সব ধরণের নেক কাজে ব্রতী হন, সৃষ্টির প্রতি করুণা করেন এবং রাত জেগে ইবাদত করেন। 

তাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যাদেরকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ হয়। আর আল্লাহ তাআলার নিকৃষ্ট বান্দা তারা, যারা মানুষের পরোক্ষ নিন্দা করে বেড়ায়, বন্ধুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং পূত-পবিত্র লোকেদের পদস্খলন প্রত্যাশা করে।’ (মেশকাত: ৪৮৭১)

আল্লাহর ওলিদের সঙ্গে শত্রুতা করা একদিকে ভয়াবহ অপরাধ, অন্যদিকে নিজের ধ্বংস ডেকে আনার নামান্তর। কেননা ওলিদের শত্রুতা মানে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে শত্রুতা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব।’ (বুখারি: ৬৫০২)

আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে শত্রুতার পরিণাম হলো দুনিয়া আখেরাতে শাস্তি অবধারিত হয়ে যাওয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-কে কষ্ট দেয় আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লানত করবেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্ত্তত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি।’ (সুরা আহজাব: ৫৭)

অতএব, আল্লাহর ওলিদের প্রতি যথাযথ সম্মান, ভক্তি-শ্রদ্ধা পোষণ করা মুমিনদের দায়িত্ব। তাদের ব্যাপারে ভালো মনোভাব রাখতে হবে এবং তাদের ভালোবাসতে হবে। এটাই ঈমানের দাবী। 

উল্লেখিত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ইসলামি শরিয়তের পরিপূর্ণ অনুসরণ ছাড়া মুত্তাকি হওয়া যায় না। আর তাকওয়া ছাড়া আল্লাহর ওলি হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি মনে করে যে, নবীজির পথ ও পদ্ধতির অনুসরণ ছাড়াই ওলি হওয়া যায় কিংবা আল্লাহর কাছাকাছি পৌঁছার ব্যবস্থা আছে তাহলে সে আল্লাহর ওলি নয়। অন্যদিকে, যেসব মুমিন নবীজির সুন্নতের অনুসারী ও তাকওয়ার সব গুণে গুণান্বিত তারাই প্রকৃতপক্ষে উঁচু স্তরের ওলি। তাদের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখ, নিশ্চয় যারা আল্লাহর ওলি তাদের নেই কোনো ভয় এবং নেই কোনো চিন্তা।’ (সুরা ইউনুস: ৬২)

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172. বাণিজ্যিক বিভাগ : +8801868-173008, E-mail: dailyjobabdihi@gmail.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft