প্রকাশ: রোববার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২:১১ পিএম আপডেট: ১২.০২.২০২৩ ২:১৩ পিএম

রাজশাহীর বাগমারার বাইগাছা এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে ৫০টি তালগাছ মেরে ফেলার অভিযোগে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আদালতে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম শাহরিয়ার আলম। তিনি ওই উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি।
তলব আদেশে হাজির হওয়ার পর তার বক্তব্য শুনে রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
৫০ তালগাছে কীটনাশক’ শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে ছাপা হওয়া সম্পাদকীয় নজরে নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এসব আদেশ দেন।
শুনানিকালে আদালত বলেন, ‘বিষয়টি খুব মর্মান্তিক। মানুষ কত নিষ্ঠুর হতে পারে!’
আদেশকালে আদালত বলেন, ‘খবরের উল্লেখিত ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সবুজ বনায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্যে অঙ্গীকারকে বিবেচনায় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দিচ্ছি।’
একইসঙ্গে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তা যৌথভাবে সরেজমিন তদন্ত করবেন। তারা উল্লেখিত গাছগুলোর ছবিসহ প্রতিবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করবেন। প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আদালতে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, প্রায় এক দশক আগে স্থানীয় এক বৃদ্ধসহ কয়েকজন ব্যক্তি সড়কের উভয় পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তালবীজ লাগিয়েছিলেন। সেসব তালগাছ বড় হয়ে এখন ছায়া দিচ্ছে। একটি তালবীজ গাছ হয়ে উঠতেই সময় লাগে এক দশক বা যুগের বেশি। এরফলে বোঝা যায়, কী নিষ্ঠা ও ধৈর্য নিয়ে পরিচর্যা করে তালগাছগুলো বড় করে তুলেছেন বাইগাছার সেসব উদ্যোগী মানুষ। আর আমরা অবাক হলাম, সেই গাছগুলো মারতে বাকল তুলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন শাহরিয়ার আলম নামের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। প্রকৃতি ও গাছের প্রতি কী রকম নির্দয় হলে এমন কাজ করা যায়, সেটিই প্রকাশ পায় এ ঘটনায়।
জ/আ