
ভারতে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত এক মাস ধরে চলতে থাকা আন্দোলন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে। স্থানীয় সময় শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের আগে এ কথা জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া দল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমরা করে দেখিয়েছি। কেউ ভয় পাবেন না। এটা গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্রে যদি মানুষ বলতে ভয় পায়, তা হলে তা কী করে গণতন্ত্র হবে? আপনারা কণ্ঠ ছাড়লে তবেই এরা লাইনে থাকবে।
ইস্তফাপত্রে ধর্মেন্দ্র লিখেছেন, গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমার মন ভারাক্রান্ত। দেশের যুবশক্তিই আসল শক্তি। দেশের এই যুবশক্তি যাতে কোনও বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে না পড়ে সেটাই আমার একমাত্র সংকল্প। যন্তর মন্তরে এবং দেশজুড়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, দেশের ঐক্য ও সংহতি যাতে বজায় থাকে, ভারতে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎও যাতে কোনও রকম আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে কোনও বাধা ছাড়াই লেখাপড়া ও কেরিয়ার গড়ায় মনোনিবেশ করতে পারে এই সব দিক বিবেচনা করেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।
এদিকে প্রায় এক মাস ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে ইতি টানতে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেছিলেন সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রী, জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। কিন্তু দু’ঘণ্টা আলোচনার শেষে ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিলেন CJP-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।
ধর্মেন্দ্রকে সরানোর প্রশ্নে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময়ও দেওয়া হয়। যা না-মানা হলে আগামী সপ্তাহে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন CJP নেতৃত্ব।
অন্যদিকে শনিবারও এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়ায় দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে। শনিবার সকালে নিট আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতেই হবে। এই দাবি না-মানা হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও অর্থই নেই বলে জানিয়েছিল আন্দোলনকারীরা।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরেই সিজেপির তরফে অভিজিৎ দীপকে জানান, তাঁরা এই আন্দোলনে মোট তিনটি দাবি রেখেছেন। দাবিগুলো যথাক্রমে-
১। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। (যা পূরণ হয়েছে)
২। নিট-কেলেঙ্কারির জেরে যে পড়ুয়ারা আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে দিতে হবে।
৩. ২০ জুলাই থেকে যত আন্দোলনকারীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে, সবগুলো মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
সূত্র: এই সময়