মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে অ্যাম্বুল্যান্স, চালু হচ্ছে জরুরি দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবা
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০ এএম

দেশে প্রথমবারের মতো মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমন্বিত দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা (পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স) চালু হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ কার্যক্রম চলতি মাসের শেষ দিকে শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
প্রথম পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় জয়দেবপুর চৌরাস্তা-টাঙ্গাইল-রাজশাহী, জয়দেবপুর চৌরাস্তা-ময়মনসিংহ এবং হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক করিডরে সেবাটি চালু হবে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর একটি করে মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন করা হবে। দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে চালকের পাশাপাশি একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক বা মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকবেন। তারা ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। কয়েকটি অ্যাম্বুল্যান্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।
পুরো কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পরিচালিত হবে। জিপিএস ট্র্যাকারযুক্ত অ্যাম্বুল্যান্সগুলোর অবস্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।
এছাড়া মহাসড়কসংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং ফার্স্ট এইড বক্স দেওয়া হবে, যাতে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহতদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অ্যাম্বুল্যান্সের স্বল্পতা, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনার পর অনেক প্রাণহানি ঘটে। নতুন এই ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় কল সেন্টার, জিপিএস-ভিত্তিক অ্যাম্বুল্যান্স ট্র্যাকিং, প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বহন করা হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাব্বির হাসান খান বলেন, চলতি মাসেই ৬০টি অ্যাম্বুল্যান্সের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষামূলক এ উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের জরুরি দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
জ/উ