দেশে ১ হাজার ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৯ এএম

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সারাদেশে সার্বজনীন ইভি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মনোরেলসহ নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কার্যকর করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহনে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত হবে। এর মধ্যে ৫০০টি বাস কেনার প্রস্তাব অর্থায়নের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ৩০০টি বাসের প্রকল্প সম্প্রসারণের কাজ চলছে এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আরও ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া বাস ক্রয় কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ৪০০ কোটি টাকা করে দুটি পৃথক ক্রয় প্যাকেজ যুক্ত করা হয়েছে। নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস বহরও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে ১০০টির বেশি বাস রাখা হবে।

সচিব বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি রুটে বৈদ্যুতিক বাস চলাচলের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। প্রথম ধাপে অন্তত ২০০টি বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে সার্বজনীন চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ৬৪টি জেলায় নিজস্ব জমিতে চার্জিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে এসব স্টেশন বেসরকারি অপারেটররাও ব্যবহার করতে পারবেন।

বুয়েট ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি কমিটি বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অভিন্ন প্রযুক্তিগত মানদণ্ড প্রণয়ন করছে। পরবর্তীতে এ মানদণ্ড বৈদ্যুতিক মিনিবাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে।

ড. জিয়াউল হক আরও জানান, যেসব রুটে মেট্রোরেল উপযুক্ত নয়, সেখানে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্য রুট ও কারিগরি সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বুয়েটকে।

বেসরকারি খাতকে বৈদ্যুতিক বাসে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে কর ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া নিশ্চিত করতে ভর্তুকি ও ভাড়ার কাঠামো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সরকারের মতে, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft