
ইরান তাদের অগ্রগতি ও আধ্যাত্মিক বিকাশের শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াইয়ে নিজেদের “অসাধারণ সক্ষমতার” একটি অংশ বিশ্বকে দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনি। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সি'র।
শুক্রবার (১ মে) শ্রমিক দিবস ও শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে যেমন ইরান নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে, তেমনি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও শত্রুদের আশা নষ্ট করতে হবে।
মুজতবা খামেনি বলেন, কোনো দেশের অগ্রগতির জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- জ্ঞান ও কর্ম। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান দেওয়া, দক্ষ করে তোলা, দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং তাদের চরিত্র ও পরিচয় নির্মাণের বড় দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর বর্তায়। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের ভূমিকাও তুলে ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দেশের ঘর-বাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খামার, কারখানা, খনি ও সেবাখাত- সব জায়গায় শ্রমিকদের অবদান রয়েছে। কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ থাকলে দেশের অগ্রগতি আরও নিশ্চিত হবে।
মুজতবা খামেনি বলেন, কখনও কখনও একজন শ্রমিক এমন মর্যাদায় পৌঁছান যে তার দক্ষ হাত সম্মানের সঙ্গে চুম্বন করার মতো। একইভাবে শিক্ষকদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা থাকা উচিত।
তিনি দাবি করেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ৪৭ বছরের বেশি সময় ধরে সংগ্রামের পর এখন সামরিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
খামেনি আরও বলেন, শিক্ষকরা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের সবচেয়ে কার্যকর শক্তি এবং শ্রমিকরা অর্থনৈতিক সংগ্রামের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের নিজেদের অবস্থানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি অভিভাবকদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদনশীল শ্রমিকদের সহায়তা করার কথা বলেন।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী ছাঁটাই থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে খামেনি বলেন, প্রতিটি শ্রমিককে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারকেও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বার্তার শেষ অংশে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইরান যেমন সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে দেশটি আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
জ/উ