ভিটামিন ডি কমাতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম

প্রিডায়াবেটিস বর্তমানে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। সঠিক ব্যবস্থা না নিলে প্রিডায়াবেটিস থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে, যা হৃদরোগ, স্নায়ু ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসসহ নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জামা নেটওয়ার্ক ওপেন-এ এবং এটি পরিচালনা করেছেন টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

গবেষণার পদ্ধতি
গবেষকরা ‘ডিটুডি’ ট্রায়ালের তথ্য পুনরায় বিশ্লেষণ করেন। এতে অংশ নেওয়া ২,০৯৮ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটি দল প্রতিদিন ৪,০০০ আইইউ ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন, আরেকটি দল প্লাসেবো নেন-সময়ের পরিসর ছিল প্রায় আড়াই বছর।

রক্তে শর্করার নির্দিষ্ট মাত্রা (ফাস্টিং গ্লুকোজ ১২৬ মি.গ্রা.-এর বেশি, ২ ঘণ্টার গ্লুকোজ ২০০ মি.গ্রা.-এর বেশি বা এইচবিএওয়ানসি ৬.৫%-এর ওপরে) দেখে ডায়াবেটিস নিশ্চিত করা হয়।

কী পাওয়া গেল
গবেষণায় দেখা যায়, যাদের ভিটামিন ডি রিসেপ্টর জিনের নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি গ্রহণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ১৯% কমেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-প্রায় ৭০% মানুষের মধ্যে এই জিন ভ্যারিয়েন্ট বিদ্যমান।

গবেষণার প্রধান গবেষক আনাস্তাসিওস পিটাস জানান, এই ফলাফল ভবিষ্যতে ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দিতে পারে। কারণ, ভিটামিন ডি সহজলভ্য, কম খরচের এবং গ্রহণ করা সহজ।

শরীরে ভিটামিন ডির ভূমিকা
ভিটামিন ডি শরীরের কোষকে ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিতে সহায়তা করে। অগ্ন্যাশয়ের কোষে থাকা ভিডিআর প্রোটিন সক্রিয় ভিটামিন ডির সঙ্গে যুক্ত হয়। জিনগত পার্থক্যের কারণে এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ভিন্ন হতে পারে-যা ব্যাখ্যা করে কেন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট কার্যকর হয়, অন্যদের ক্ষেত্রে নয়।

সতর্কতা ও পরামর্শ
গবেষণায় ব্যবহৃত ভিটামিন ডির মাত্রা (৪,০০০ আইইউ) সাধারণ নির্দেশনার (৬০০-৮০০ আইইউ) তুলনায় অনেক বেশি হলেও ট্রায়ালে বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবুও বিশেষজ্ঞরা নিজে থেকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

গবেষক ডসন হিউজেস বলেন, ভবিষ্যতে একটি সহজ জেনেটিক টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে কারা এই সাপ্লিমেন্ট থেকে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন।    

করণীয় কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

তবে জেনেটিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই গবেষণা নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে-সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে ভিটামিন ডি হতে পারে একটি সহজ প্রতিরোধমূলক উপায়। সূত্র: এনডিটিভি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft