প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন হোসনে আরা বেগম নামের এক কুয়েত প্রবাসী নারী। তার বসত বাড়ি দখল করতেই তার উপর হামলা চালিয়ে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এঘটনায় বাঞ্ছারামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ওই ভুক্তভোগী নারী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) নীচতলার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী হোসনে আরা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপূরে বাঞ্ছারামপুর থানার চর লহনিয়া গ্রামের তার বাড়িত অবস্থান করছিলেন। এ সময় এলাকার চহ্নিতি সন্ত্রাসী মফজিুল ইসলাম, শহদিুল ইসলাম, মনি বগেম, তছু মিয়া, শিশু মিয়া, শিল্পী আক্তার ও স্বপন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী তার বাড়ির সামনে এসে ডাক-চিৎকার করতে থাকে।
এসময় সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি তার বাড়ির সামনে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসী মফিজুল ও শহিদুল ইসলাম তার বাড়ি ছেড়ে এলাকা থেকে চলে যেতে বলে। তিনি তার নিজের জমানো টাকায় কেনা জমি ও বাড়ি ছেড়ে কোথায় যাবেন? এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একর্পযায়ে সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালায়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি, লোহার রড ও কাঠের ফালি দিয়ে মারধর করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে তার ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় রুমি আক্তার, সুমাইয়া আক্তার ও রুবি আক্তারসহ লোকজন তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকেও মারধর করে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাাতলে নেয়ার চেষ্টা করলেও সন্ত্রাসীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেয়। একর্পযায়ে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর এক অটোচালক তাকে উদ্ধার করে বাঞ্ছারাম উপজলো স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চকিৎিসাধীন অবস্থায় হোসনে আরা বেগম বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতাকে বিষয়টি জানান। পরে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলজে হাসপাতালে রেফার্ড করা হলেও সেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে থানার ওসি তাকে থানায় ডেকে নেন।
তিনি আরও জানান, থানার এএসআই জুয়েল ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য যান। এসময় ঘটনার স্বাক্ষীদের সন্ত্রাসীরা এসে হুমকি-ধামকি ও মারধর করে বিরত রাখার চেষ্টা করেন। পরে ভানু বেগম নামের একজন স্বাক্ষী তাদের বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগে তিনি বলেন, হোসনে আরা বেগমের ঘটনাকে কন্দ্রে করে তার মেয়েদের সন্ত্রাসী শহিদ শত্রæতা করে আসছে। সন্ত্রাসী মফজিুল ও শহিদুল অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। মফিজুলে তার মেয়ের চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানী করে। আর শহিদ লাঠি দেয় মেয়ের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মফিজুল ও শহদিুল ওরফে সহিদ খুবই উশৃঙ্খল, প্রতারক, বদমজোজী, জুলুমবাজ, অত্যাচারি ঠকবাজ প্রকৃতির মানুষ। তিনি র্দীঘ দিন কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। সেখানের কষ্টার্জিত টাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।
হোসনে আরা বেগম অভিযোগ করে আরও বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরের সময় র্পূব পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জতি হয়ে তার উপর হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের সহযোগী শিল্পী আক্তার তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যান্য সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করেছে। চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করলেও মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ও মামলা গ্রহণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতমিন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।