প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমির এই পরিচয় তার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রেরণা, তিনি জালিমের কারাগারে জুলুমের শিকার মজলুম জননেতা, তিনি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ আদর্শ স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে জানিয়ে নাহিদ আরও বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। উভয় দল এবং উভয় জোটের জন্য একই রকম আচরণবিধি থাকতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমরা এখনো মুখে বলে যাচ্ছি। আমাদেরকে আন্দোলনের দিকে নামতে বাধ্য করবেন না।’
তিনি বলেন, আমাদের কাজ এখনো অসম্পন্ন রয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে সেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুনতে পাচ্ছি কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক এটা আমরা চাই। কিন্তু এই কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবেতো? দুই হাজার টাকার কার্ড নিতে এক হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে নাতো? ঘুষ চাঁদাবাজি যদি বন্ধ না করতে পারি, তাহলে এসব সুবিধা কি জনগণের কাছে পৌঁছাবে? একদিকে বলা হচ্ছে কার্ড দেবে, আর একদিকে ঋণ খেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ কেমন দ্বিচারিতা।
‘প্রকৃতপক্ষেই যদি জনগণকে সুবিধা দেওয়ার নিয়ত থাকে তাহলে কেউ ঋণ খেলাপিকে নমিনেশন দিতে পারে না। যারা ঋণ পরিশোধ করেনি, তারা সংসদে গেলে কি আর ঋণ পরিশোধ করবে? এরা আবারও ঋণ নেবে, আবার লুট করবে, আবারও টাকা পাচার করবে বিদেশে। আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি। নতুন কোনো লুটেরাদের ক্ষমতায় যেতে দেব না। দেশের জনগণ তাদের ক্ষমতায় যেতে দেবে না।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার বদলের নির্বাচন নয়, এবারের নির্বাচন দেশ পরিবর্তনের নির্বাচন।
পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসকে না বলতে দেশবাসীকে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।