
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ইশতেহারে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’- এই নতুন শব্দবন্ধ সামনে আনতে চায় বিএনপি। মূলত, চেনা বড় শিল্পের বাইরেও নতুন ধাঁচের কাজ আর উদ্যোক্তাদের জায়গা দিতে চায় দলটি। প্রযুক্তিনির্ভর কাজ, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং সবই থাকবে তালিকায়। পাশাপাশি সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তুলে দেয়ার পক্ষে দলটি। ব্যাংকের ওপর বাড়তি চাপের বিকল্প হিসেবে বড় বড় প্রকল্পের টাকা পুঁজিবাজার থেকে সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানতে ডিজিটাল নজরদারি পরিষেবাও বাড়ানোর পরিকল্পনা দলটির।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে জিতে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে বিএনপি। সেবার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যের ধারণা ভাঙে দলটি। বেসরকারি খাত খুলে দেয়া হয়, বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে, সহজ হয় আমদানি-রফতানি নীতি। তখন থেকেই দেশের অর্থনীতি একটু করে গতি পায়। ৪-৫ শতাংশের ঘরে ঘোরাফেরা শুরু করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি। যদিও রাজনীতির টানাপোড়ানে সেই গতি ধাক্কা খেয়েছে বারবার।
প্রায় ৩ দশক পর ফের জনগণের কাঠগড়ায় অর্থনীতি। অর্থ পাচার থামেনি। খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। বাজারে সিন্ডিকেটের দাপটও বেশ জোরালো। আগের সরকার এসব সামলাতে পারেনি- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমান প্রশাসন সংস্কারের কথা বললেও, সেই কাঙ্ক্ষিত গতি দৃশ্যমান হয়নি।
এমন বাস্তবতায় বিএনপি বলছে, আবার বাজারমুখী পথে ফিরতে হবে। তবে এবার শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষমতায় গেলে নজর থাকবে কর্মসংস্থানে। সামনে আসবে উদ্ভাবনী স্টার্টআপ, প্রযুক্তি নির্ভর পেশাদার আর ছোট উদ্যোক্তারা। পুঁজির যোগান বেশি পাবেন এসএমই উদ্যোক্তারা।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতিতে প্রতিটি গোষ্ঠিকেই জিডিপির নেপথ্যের কারণ হিসেবে দাঁড় করাতে হয়। এটিকে ক্রিয়েটিভ ইকোনমিও বলা হয়। আমাদের ইশতেহারেও এটি থাকবে।
এদিকে, নতুন নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে খেলাপি ঋণ। অথচ বড় ঋণের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। পুঁজিবাজারে মানুষের ভরসাও কম। তাই বিএনপির ভাবনায় বন্ড মার্কেট চালু করা জরুরি। আর ব্যাংকের নজরদারি থাকবে শুধুই বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেশের সার্বিক অর্থনীতির ওয়াচডগ হিসেবেও অভিহিত করেন আমীর খসরু। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাগাভাগি দায়িত্ব পালনে সেই রেশ বাধাগ্রস্থ হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা জানান, বাজার সিন্ডিকেট ইস্যুতেও তাদের অবস্থান কেমন হতে পারে। তার মতে, প্রযুক্তিই এখানে আসল চাবিকাঠি। কৃষক থেকে ক্রেতা, পুরো সাপ্লাই চেইনে অপ্রয়োজনীয় দালাল কমাবে ডিজিটাল সেবা। কড়া অবস্থান থাকবে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও।
মূলত, অর্থনৈতিক সংস্কারের এসব ভাবনাসহ একগুচ্ছ নতুন ধারণা প্রাধান্য পাচ্ছে বিএনপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে।
জ/উ