
লিগ আঁ-র তলানির দল মেতজের মাঠে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ম্যাচে দু’বার দুই গোলের লিড পেলেও তা ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হয় পিএসজিকে। সফরকারীদের হয়ে গোল করেন গনসালো রামোস, কুয়েন্টিন এনজান্তু ও দেজিরে দুয়ে।
এই জয়ে পিএসজির পয়েন্ট দাঁড়াল ৩৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঁসের চেয়ে তারা দুই পয়েন্ট এগিয়ে, লঁস রোববার নিসের বিপক্ষে মাঠে নামবে। অন্যদিকে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগের তলানিতেই রইল মেটজ।
মৌসুমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দুর্বল রক্ষণভাগের দল মেতজের বিপক্ষে শুরুতে সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খায় পিএসজি। আগের ১৫ ম্যাচে ৩৪ গোল হজম করা দলটির বিপক্ষে অবশেষে ৩১তম মিনিটে জালের দেখা পায় অতিথিরা।
সংক্ষিপ্ত কর্নার থেকে লি কাং-ইন ওয়ান-টু খেলেন, এরপর ছয় গজ বক্সে ভাসানো ক্রসে গনসালো রামোস হেডে বল জালের নিচের কোণে পাঠান।
এর আট মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে পিএসজি। ইব্রাহিম এমবায়ের নিখুঁত ক্রসে কুয়েন্টিন এনজান্তু স্লাইড করে বল জালে জড়ান। ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চলতি লিগ আঁ মৌসুমে পিএসজির ১৭তম ভিন্ন গোলদাতা হিসেবে নাম লেখান।
এর কিছুক্ষণ আগেই গোলরক্ষককে কাটিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেছিলেন রামোস। আর বিরতির তিন মিনিট আগে হঠাৎ করেই এক গোল শোধ করে মেটজ।
বক্সে হাবিব দিয়ালোর শট ব্লক হলে বল গিয়ে পড়ে জেসি দেমিঙ্গের কাছে। তিনি হাফ-ভলিতে বল জালের ছাদে পাঠিয়ে দ্বিতীয়ার্ধকে করে তোলেন আরও রোমাঞ্চকর।
বিরতির পর মেতজের ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশাই শেষ করে দিতে মরিয়া ছিল পিএসজি। গোলরক্ষক জোনাথন ফিশার এনজান্তু, রামোস ও লি কাং-ইনের শট ঠেকিয়ে দেন। তবে ঘণ্টাখানেকের মাথায় স্বাগতিকরাই প্রায় সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল।
দিয়ালো ভলিতে বল অল্পের জন্য বাইরে পাঠান, আর কিছুক্ষণ পর পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ দুর্দান্ত ডাইভে কফি কুআওর জোরালো শট ঠেকান।
ঠিক তখনই, যখন মেটজ সবচেয়ে ভালো সময় পার করছিল, তাদের কর্নার থেকে পাল্টা আক্রমণে উঠে পড়ে পিএসজি। বদলি হিসেবে নামা দেজিরে দুয়ে একাই গোলের সামনে পৌঁছে ৬৩তম মিনিটে শান্ত মাথায় বল জালে পাঠান।
এরপর এমবায়ের শট ক্রসবার কাঁপায় এবং দুয়ের শক্তিশালী শটে আবারও দারুণ সেভ করেন ফিশার। হাল ছাড়েনি মেতজ। ম্যাচের শেষ নয় মিনিট আগে তারা একটি চোখ ধাঁধানো গোল করে ম্যাচে ফেরে।
ডান দিক থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন জিওর্গি সিতাইশভিলি। সাময়িকভাবে বল হারালেও গথিয়ে হেইনের চমৎকার ব্যাকহিল পাসে আবার বল পান সিতাইশভিলি এবং দূরের পোস্টে দুর্দান্ত শটে গোল করেন।
শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখে পিএসজি। তবে পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারে মেতজ। এমন খেলাই যদি তারা তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত দেখাতে পারে, তবে দ্রুত লিগ টু-তে নেমে যাওয়ার শঙ্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
জ/ই