প্রকাশ: রোববার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৫ পিএম

গাজা সিটিতে চালানো এক হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রায়েদ সাদকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শনিবারের ওই হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। ওদিকে গাজায় তীব্র শীতে জনজীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্ভোগ। একদিকে ঠাণ্ডা অন্যদিকে ইসরাইলের অবরোধ। গাজাবাসী পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় সহায়তা।
জাতিসংঘ বলছে, গাজায় বৃষ্টি হলেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতিটি বাস্তুচ্যুত পরিবারের এ সময় অসীম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ওদিকে, হামাস এক বিবৃতিতে রায়েদ সাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তারা জানিয়েছে, গাজা সিটির বাইরে একটি বেসামরিক যানবাহনে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা অক্টোবর মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করে, রায়েদ সাদ হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন। এই সক্ষমতা ইসরাইলের টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ৭ই অক্টোবর ২০২৩ সালের ইসরাইলে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
যদি রায়েদ সাদ সত্যিই নিহত হয়ে থাকেন, তবে অক্টোবর মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটি হবে হামাসের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন রায়েদ সাদ। তাকে তিনি হামাসের অস্ত্র উৎপাদন শাখার প্রধান হিসেবে উল্লেখ করেন। হামাসের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোও রায়েদ সাদকে সংগঠনটির সশস্ত্র শাখার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে, যিনি ইজ্জ আদ-দীন আল-হাদ্দাদের পরের অবস্থানে ছিলেন।
ওই সূত্রগুলো জানায়, রায়েদ সাদ আগে হামাসের গাজা সিটি ব্যাটালিয়নের প্রধান ছিলেন, যা সংগঠনটির সবচেয়ে বড় ও সুসজ্জিত ইউনিটগুলোর একটি। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের নাবুলসি মোড়ে একটি গাড়িতে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়, এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে সংস্থাটি নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি এবং ওই হামলাই রায়েদ সাদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিশ্চিত করেনি। গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইল প্রায় ৮০০ বার গাজায় হামলা চালিয়েছে, যাতে কমপক্ষে ৩৮৬ জন নিহত হয়েছেন, যা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এছাড়া ইসরাইল এখনও গাজায় প্রবেশকারী অধিকাংশ ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দিচ্ছে। শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিপুল ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যেখানে ইসরাইলকে গাজা উপত্যকায় অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেয়া, জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা এবং দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ/উ