মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ১২ বাংলাদেশি নারীসহ ১৪ জন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম আপডেট: ১৪.১২.২০২৫ ২:৩০ পিএম

ভারতের গুজরাট রাজ্যে একটি আন্তঃরাজ্য মানবপাচারকারী চক্রের হদিস পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের মূল বাংলাদেশি এজেন্ট ফারুক শেখসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ১২ বাংলাদেশি নারীসহ মোট ১৪ জন নারীকে। পুলিশ জানায়, কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এনে ওই নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।

ভারুচ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের নারীদের টার্গেট করত। বিউটি পার্লার ও সেলুনে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনা হতো। পরে গুজরাট, গোয়া, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে পাঠানোর কথা বলে ভারুচ ও অঙ্কলেশ্বরের বিভিন্ন স্পা ও গেস্ট হাউসে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত ফারুক শেখ আদতে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং পরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভুয়া নথিপত্র সংগ্রহ করে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক শেখ স্বীকার করেছেন, তিনি গৃহকর্মী ও বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন নারীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এনেছেন।

আরও পড়ুন : ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ, নেওয়া হয়েছে ঢামেকে

উদ্ধার হওয়া ১৪ জন নারীর মধ্যে ১২ জনের কাছ থেকে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। বাকি দুইজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভারুচ ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় পুলিশ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ভারুচ ও অঙ্কলেশ্বর এলাকার একাধিক স্পায় অভিযান চালায়। সেখানে অপারেটর, বাংলাদেশি নারী ও কলকাতার নারীদের পাওয়া যায়।

উদ্ধার হওয়া একাধিক নারী পুলিশকে জানান, কাজের সন্ধানে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন; কিন্তু পরে তাদের জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের নথি এবং পতিতাবৃত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার রুপি।

আরও পড়ুন : টাকা চুরিকে কেন্দ্র করেই মা-মেয়েকে হত্যা করে গৃহকর্মী আয়েশা : ডিএমপি

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভারুচের ডেপুটি পুলিশ সুপার অক্ষয়রাজ মাকওয়ানা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইন, অভিবাসন ও বিদেশি আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ (এলসিবি) ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) প্রযুক্তিগত নজরদারি ও মানব গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযান শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে জাম্বুসার বাইপাস রোডের আলফারুক পার্ক সোসাইটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি এজেন্ট ফারুক শেখ পুলিশের নজরে আসে। তার বাড়িতে বাংলাদেশি নারীদের অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ফারুক শেখের সঙ্গে চার বাংলাদেশি নারীকে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

ঘটনাটি তদন্ত করছে ভারুচ পুলিশ। এই পাচার চক্রে আর কারা জড়িত এবং কোন কোন পথে বাংলাদেশি নারীদের ভারতে আনা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft