প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২১ পিএম

ফরিদপুর-১ আসন—আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালি নিয়ে গঠিত। একসময় আওয়ামী লীগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক চিত্র বদলে যায়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। ফলে দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিটি এখন কার্যত শূন্য মাঠ—আর সেই শূন্যতা পূরণে শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি।
আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মাঠ থেকে এক হাজারের বেশি মোটরসাইকেল নিয়ে বর্ণাঢ্য শোডাউন শুরু করে দলটি। সকাল থেকেই এলাকা জুড়ে শোরগোল পড়ে যায় মোটরসাইকেলের লম্বা বহরে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনীতির সূচনা হয়েছে। মাদক আমদানি বন্ধ করে তরুণ সমাজকে সুস্থ পথে ফেরাতে আমরা বিনা খরচে চিকিৎসা দেব। ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
শোডাউনটি আলফাডাঙ্গা সদর বাজার হয়ে বোয়ালমারী দিয়ে মধুখালীর কামারখালীতে গিয়ে শেষ হবে। পথে দলটির পক্ষ থেকে কয়েকটি পথসভা আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর-১ আসনে ১৯৭১–পরবর্তী প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু ১৯৯৬ সালের একক নির্বাচন। সে সময় আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম মাত্র ৩ হাজার ৯০০ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও তাঁর মেয়াদ ছিল মাত্র ১৩ দিন।
এ আসনে এবারই প্রথম এককভাবে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামি। দলটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ঘোষণা করেনি।
জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্ব মনে করছে, অতীতের রাজনৈতিক বৈরিতায় বিএনপির হাতে ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মী–সমর্থকদের একটি অংশ এবার বিকল্প খুঁজতে পারে। সেই বিকল্প হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে চায় জামায়াত।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা জামায়াত ইসলামির সেক্রেটারি মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি চায়। আমরা সেই নিশ্চয়তা দিতে চাই। এবার ভোটাররা নতুনভাবে ভাবতে পারে।