
জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির ৭ শুন্য পদে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের উপদেষ্টামন্ডলী এবং সিনিয়র নেতা-কর্মী ও সভাপতির সিদ্ধান্তক্রমে শুন্য পদের সাত সদস্যবিশিষ্ট জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সালমা আক্তার শারমিন, সাধারণ সম্পাদক পদে অভিনেতা, লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক শাওন আশরাফ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রেহানা খানম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আতিকুর রহমান বিপু, দপ্তর সম্পাদক পদে তৌহিদুল ইসলাম সাহিল, প্রচার সম্পাদক পদে সাজেদা বেগম খেয়ালী ও যুগ্ম প্রচার সম্পাদক মুনীর হায়দার মুনীর।
সম্প্রতি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সভায় সংগঠনের সভাপতি রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানান, নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম এবং সাংগঠনিক নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রত্যেকে যেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দেশের গৌরব পুনরুদ্ধারে কাজ করেন, সেটাই প্রত্যাশা। সংগঠন কোনো ব্যক্তিগত পদ-পদবি নয়, এটি একটি দায়িত্ব, একটি অঙ্গীকার, জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলার এক অবিচল সংগ্রাম। জিসাসের প্রত্যেক সদস্য যেন শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং মানবতার পক্ষে অবস্থান নেন। দেশের সকল বিভাগ, জেলা, মহানগর, উপজেলা ও প্রবাসে থাকা জিসাসের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এখন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার। শিগগিরই ‘জিসাস সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ কর্মসূচি’ কার্যক্রম চালু করা হবে। জিসাস হোক সংস্কৃতি জগতে মুক্তচিন্তা, মানবতা ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধন। প্রত্যেক নেতাকর্মী নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় করে তুলবেন এবং জাতির সামনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেবেন, এটাই প্রত্যাশা বলে জানান তিনি।
সংগঠনের উপদেষ্টা অবিভক্ত ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জিন্টু তার বক্তব্যে বলেন, জিসাস এমন একটি পরিবার যেখানে শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আমাদের নতুন প্রজন্মের সদস্যদের বলবো আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিভা, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক যোগ্যতা দিয়ে জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুন। আজকের তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানো, দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করা এবং শিল্পের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা, এটাই জিসাসের মূল লক্ষ্য।
মো. মোস্তফা আবু সালেক মানু বলেন, সংগঠনের সাফল্যের মূল শক্তি হচ্ছে শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও দলীয় ঐক্য। নবনির্বাচিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে আমার বার্তা—আপনারা পদ নয়, দায়িত্বকে ভালোবাসুন। সাংস্কৃতিক আন্দোলন হচ্ছে আত্মার আন্দোলন; এখানে ব্যক্তিস্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থই সর্বাগ্রে। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করি, তাহলে জিসাসের পতাকা আরও উঁচুতে উড়বে। আগামীতে আমরা প্রতিটি বিভাগে “জিসাস সাংস্কৃতিক সংলাপ ও মুক্তমঞ্চ আলোচনা” আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের শিল্পীরাও জাতীয় মঞ্চে উঠে আসতে পারেন বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মো. জসিম উদ্দিনসহ আরো অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রেখেছেন।