টাইফয়েড টিকাদানে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম পেশাজীবীদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে গতকাল সোমবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে TCV Vaccination Campaign ২০২৫ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়নাধীন শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম” প্রকল্পের আওতায় National Level Consultation Workshop on TCV Vaccination Campaign 2025 with Media People And Journalists শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ কর্মশালা।
এ আয়োজনের মাধ্যমে টিসিভি টিকা সংক্রান্ত তথ্য, বার্তা ও জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব সাধারণ জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান), ড. মো. মারুফ নাওয়াজ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশে আমাদের মিশুদের স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। সে লক্ষ্যে আমরা সমবেত হয়েছি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বফ‚র্ণ বিষয়ে সারাদেশব্যাপী টাইফয়েডের টিকাদান ক্যাম্পেইনে অংশ নিচ্ছি। এজন্য সবার সহযোগিতাই আমরা তৃণমূল জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারব। এক সময় কলেরা প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশ জর্জরিত ছিল। চমৎকার স্যালাইন তৈরির ফরমুলাই গোটা দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। শুধুমাত্র সচেতনতামূলক প্রচারণার কারণে সেটা সম্ভব হয়েছিল। কাজেই টাইফয়েডের ক্ষেত্রেও একই ভ‚মিকা মিডিয়া পালন করবে আমরা আশাবাদী। এ কারণে আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতা বিশেষভাবে কামনা করছি।
বিএনপির আরও ২১ নেতা বহিস্কার
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গণমাধ্যমের ভ‚মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিসিভি টিকাদান কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা জনগণের সর্বস্তরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ইউনিসেফ বাংলাদেশ এই কার্যক্রমে যে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পোলিও, কলেরা ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তার পেছনে গণমাধ্যমের অগ্রণী ভ‚মিকা অনস্বীকার্য। আমি বিশ্বাস করি, টিসিভি টিকাদান কর্মসূচিও গণমাধ্যমের শক্তিশালী অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে একটি সফল জাতীয় উদ্যোগে পরিণত হবে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, এই টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্ব ও বার্তাটি আরও বেশি প্রচারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে, যাতে সবাই টিসিভি টিকাদানের সুফল সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।
রিসোর্স পারসন হিসেবে ছিলেন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান), ড. মো. মারুফ নাওয়াজ, ইউনিসেফের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সলোমান, ইপিআই ফোকাল পয়েন্ট ডা. রাজীব সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। ইউনিসেফের টিকাদান কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ডা. রিয়াদ মাহমুদ, ইউনিসেফের এস বি সি সেকশনের শেখ মাসুদুর রহমান, প্রমূখ। রিসোর্স পারসনগণ তাঁদের উপস্থাপনায় টিকাদান কর্মসূচির কারিগরি দিক, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক বার্তা প্রচারের কৌশলসমূহ গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার ৭০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা টিসিভি টিকার কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, টিকাদানের সময়সূচি, লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠী এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।