প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৪ পিএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সরকারি ঘর ও ভিডাব্লিউবি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে। গোপালপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মোল্লার বিরুদ্ধে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আবু সাঈদ মোল্লা।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে টিকরপাড়া গ্রামের লাভুকে সাক্ষী রেখে আবু সাঈদ ইউপি সদস্যকে ২০ হাজার টাকা দেন। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা সরকারি ঘরের জন্য এবং আরও ১০ হাজার টাকা দুটি ভিডাব্লিউবি কার্ডের জন্য দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীর স্ত্রী নাজমা বেগমের নামে একটি কার্ড হলেও তাঁর ছোট ভাই দিনমজুর জুবায়েরের স্ত্রীর নামে কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। প্রতিশ্রুত সরকারি ঘরও পাননি তিনি। টাকা ফেরত চাইলে ইউপি সদস্য নানা অজুহাত দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহিম মোল্লার বিরুদ্ধে আগেও বিতর্ক উঠেছে। ২০২৩ সালে তিনি একই গ্রামের প্রবাসী মনিরুল ইসলামের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনতার হাতে ধরা পড়লেও রক্ষা পান তিনি, তবে ওই নারীর সংসার ভেঙে যায়।
এছাড়া বিধবা আয়েশার জমি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে দখল করার অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আয়েশা মামলা করলে ইব্রাহিম মোল্লা কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হন।
ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য অভিযোগ তোলা হয়েছে।’
আলফাডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, ‘অভিযোগ হাতে এসেছে। তদন্তে সাপেক্ষ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, তৃণমূলে সরকারি ঘর বা ভাতার মতো সুবিধা পেতে রাজনৈতিক প্রভাব আর টাকার লেনদেন এখন সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।