যাত্রাবাড়ি থানার এসআই মোর্শেদের সাড়ে ২৬ লাখ বাণিজ্যের অভিযোগ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:২৯ পিএম

পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নে অগ্রণী ভূমিকার কারণে যাত্রাবাড়ি থানার এসআই মোর্শেদ গত ২০২৪ সালে সেরা অফিসার পদক পেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, থানায় দায়ের করা হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার বাদীর সাথে যোগসাজশে গ্রেপ্তার বাণিজ্য করছেন। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ি থানার ৩০(১২) ২৪ নম্বর মামলায় (ধারা- ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪) তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্য করেছেন সাড়ে ২৬ লাখ টাকা। কিন্তু আদালতে পাঠিয়েছেন অপর একটি মামলার আসামী বানিয়ে।

অভিযোগে জানা যায়, আলহাজ্ব মো, নজরুল ইসলাম খান (৫৮) একজন হজ্জ্ব এজেন্সীর মালিক এবং দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার বিভিন্ন লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসা ও এতিমখানার খাদেম হিসাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যবসায়ের মাধ্যমে সমাজসেবা করে আসছিলেন। হজ্জ্ব এজেন্সীর মালিক হওয়ায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে তার উঠা-বসা ও সুসম্পর্ক থাকলেও তার কোন রাজনৈতিক পরিচিতি বা কোন দলের নেতা-কর্মী নন। স¤প্রতি অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর হতে কল করে তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে বলে তানা হলে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ঘটনার করা মামলায় মিথ্যা আসামী বানানো হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছিলো। তিনি কোন ধরণের অন্যায়-অপরাধের সাথে জড়িত না থাকায় ওই হুমকি-ধামকিতে কর্ণপাত করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি, বুধবার দুপুর ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ি থানার এসআই মোর্শেদ আলম ১১জন পুলিশ সদস্যসহ যাত্রাবাড়ির ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপাড়ার খান মহল বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি যাত্রাবাড়ি থানার মামলা নং- ৩০ (১২) ২৪, ধারা- ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪-এর তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নজরুল ইসলামকে ওই মামলার ৫৭ নম্বর আসামী উল্লেখ করে তাকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে শেহজাদ সানি, ওয়াসী উদ্দিন আলোসহ আরো কয়েকজনের সামনে তাকে রিমান্ডে নেযার ভয় দেখিয়ে তার বোন নাসিমা আক্তার মুন্নিকে ডেকে এনে বিকেল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ি থানার ২য় তলার ৪ নম্বর রুমের পাশ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এসআই মোর্শেদ আলম। পরে গভীর রাত পর্যন্ত দেন-দরবার করে নজরুলকে ওই মামলা থেকে নাম কাটার কথা বলে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় মোর্শেদ ওই জিহাদ হত্যা মামলার বাদী কথিত চাচাকে আপোষের জন্য, মিডিয়া ম্যানেজ করতে, থানার ওসি ও ওয়ারি বিভাগের ডিসিকে ম্যানেজ করতে ৪০ লাখ টাকার কম হবে না বলে জানান। বাকী লেনদেন থানায় না করারও পরামর্শ দেন তিনি। 

শেখ হাসিনার বিচার শেষ পর্যায়ে

গত ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিবিরবাগিচার ২ নম্বর গেট সংলগ্ন ৭৬/২/এম/৫ নম্বর বাড়ির নিচ তলায় মামলার বাদী কর্তৃক তিন’শ টাকার স্ট্যাম্পে হলফনামা দিয়ে তার নাম এজারহার থেকে কেটে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওই মামলা বাণিজ্য চক্রের সদস্যদের টাকা কমানোর অনুরোধ জানান নজরুলের বোন মুন্নি। পরে রফিকুল ইসলাম নামের এক আত্মীয়ের আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কোনাপাড়া শাখার ০৫০১৩১০১৮৪২৪১ নম্বর একাউন্টের ডিপিএস ভেঙ্গে ২৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে একাধিক স্বাক্ষীরর উপস্থিতিতে ২৪ লাখ টাকাসহ আরো অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সর্বমোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এসআই মোর্শেদ আলমের হাতে দেয়া হয়। কিন্তু মোর্শেদকে সর্বমোট ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ বুঝিয়ে দেয়া সত্ত্বেও নজরুলকে না ছেড়ে অপর একটি মামলায় (যাত্রাবাড়ি থানার মামলা নং- ৪৫ (১১) ২৪, (ধারা- ৩০৭/৩২৬/১০৯/২০১)-এর এজাহারের ৯২ নম্বর আসামী হিসেবে দেখিয়ে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে আদালতে পাঠিয়ে দেয়।

আরও জানা যায়, বর্তমানে মামলার বানানো আসামী নজরুল বিনা অপরাধে অসুস্থ্য অবস্থায় কারাভোগ করছে। অপর দিকে টাকা দেয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে না আনতে এসআই মোর্শেদের যোগসাজশে মামলা বাণিজ্যের সংঘবদ্ধ চক্র তার পরিবার ও উপস্থিত ব্যক্তিদের নতুন মিথ্যা মামলার আসামী বানিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে বলে জানা যায়।

রাজউকের গুলশান স্টেট অফিসারের কয়েক’শ কোটির সম্পদ

এদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দিতে আইজিপিসহ, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে যাত্রাবাড়ি থানার এসআই মোর্শেদ আলম বলেন, আর্থিক লেনদেনের ঘটনা সম্পূর্ণ বানোয়াট। আটক করা নজরুল ইসলামের নামে একাধিক মামলা ছিলো। তাকে থানায় আনার পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আর্থিক কোনো লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  অপরাধ   যাত্রাবাড়ি   মামলা বাণিজ্য  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft