প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৪০ পিএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সামান্য একজন গাড়ি চালকেরও কমপক্ষে ৫টি বাড়ি ও কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। রাজউক বর্তমানে অন্যতম ধনী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিলাসী জীবন-যাপন সকলের নজর কাড়ে। তবে এ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক অভিযোগ পেলেও তেমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে না বলে জানা গেছে। অভিযোগ জানা যায়, রাজউকের গুলশান-১-এর স্টেট অফিসার মো. মশিউর রহমান তার সম্পদের কারণে আলোচনায় এসেছেন। তিনি বিএনপি আমলে নিয়োগ পেলেও তার সম্পদের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা বলে অভিযোগ রয়েছে। তার রাজধানীর গোপীবাগ ও টিকাটুলি এলাকার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি, রাজউকের পূর্বচল প্রজেক্টে ৭ কাঠার প্লট এবং আরও কয়েকটি এলাকায় কয়েকটি বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজউকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মো. মশিউর রহমান উত্তরা স্টেটে ১০ বছর চাকরি করার সময় নানা অবৈধ পথে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি বিল্ডিং পরিদর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। উত্তরা এলাকায় প্লট জালিয়াতির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও ৫ আগস্টের পর তিনি জাতীয় শ্রমিক দলের সক্রিয় সদস্য হয়ে যান। বর্তমান সময়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করছেন।
এদিকে, রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে মো. মশিউর রহমান এখনও বহাল তবিয়াতে রয়েছেন। প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন করার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তার এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার কারণে পুরো রাজউক কর্মকর্তাদের দুর্নামের শিকার হতে হচ্ছে। দুদক বর্তমানে তার বিরুদ্ধে গোপনে অনুসন্ধান করছে। রাজউকের মত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পাবে। এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত শুরু করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা যায়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজউকের গুলশান-১-এর স্টেট অফিসার মো. মশিউর রহমান জানান, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানানো, এসব অভিযোগ কোথায় পান? আমার কি আছে না আছে তা আমার অফিসের বসরা জানেন। তাছাড়া বর্তমান উন্নত প্রযুক্তি থাকায় এনআইডি দিয়ে সার্চ দিলেই সব কিছু বের হয়ে যায়। তাই যারা এমন অভিযোগ করেছেন তারা না জেনেই বলেছেন। প্রয়োজন হলে আপনি অনুসন্ধান চালিয়ে দেখুন কি পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বলে জানান তিনি।