প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:০৯ পিএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামী বানিয়ে বাণিজ্য ও তদন্তে গভীর রাতে আসামী গ্রেপ্তারের নামে এক নারীর শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জিহাদ হোসেন হত্যা মামলায় এলাকার হক আদায় করতে প্রতিবেশী চাচা হিসাবে ওয়াসী উদ্দিন আলো (৫২) বাদী হয়ে মামলা বাণিজ্য করেছেন। অপরদিকে, গভীর রাতে মামলার তদন্ত ও আসামী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে এই শ্লীলতাহানির চেষ্টা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ারি বিভাগের ডিবির ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ খালেদ মোল্লা।
এই দুটি ঘটনায় আইজিপি কমপ্লেইন সেলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সানিয়া আলম নামের এক নারী। অভিযোগে তিনি বলেন, তিনি যাত্রাবাড়ি থানা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে যাত্রাবাড়ি থানা এলাকায় সংঘর্ষে তার ছেলে রাগিব রহমত তাজবী (২৩), তার সহযোদ্ধা বন্ধু ফয়সাল ও এলাকার ছোট ভাই জিহাদ হোসেন (১৯) আহত হন। এর মধ্যে জিহাদ হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকার হক আদায় করতে প্রতিবেশী চাচা হিসাবে উত্তর যাত্রাবাড়ির বিবিরবাগিচার বাসিন্দা ওয়াসী উদ্দিন আলো ২২০ জনকে আসামী বানিয়ে গত ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ি থানা আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (সি.আর মামলা নং- ১০৫২/২৪)। পরবর্তীতে মামলার বাদী ও আরো কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে মামলার ৩, ৭, ৩২, ৫২, ৫৪, ৮৩, ১২৮, ১৪৩, ১৬৬, ১৭৮,২১২ নম্বর আসামীসহ প্রায় ২০ জন ব্যক্তিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হলফনামা করে ওই মামলা থেকে নাম কাটার জন্য বাণিজ্য করেন। যার কারণে বাদীকে বিজ্ঞ সিএমএম আদালত-২৪ বাধ্যতামূলক ৫ ঘন্টা আদালতে হাজতবাসের নির্দেশ দেন এবং আসামী গ্রেপ্তারে গত ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া গ্রেপ্তার বিষয়ক প্রজ্ঞাপন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করে জনসাধারণকে হয়রানি নিরসনে নির্দেশ প্রদান করা হয়। তিনি আরও জানান, ওই মামলা দায়েরের পূর্ব হতে বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর থেকে কল করে তার নাম মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৩/৪ লাখ টাকা দাবি করেন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। পরে যাত্রাবাড়ি থানার ৩০(১২)২৪ নম্বর মামলায় ভুয়া ও গায়েবী পদ-পদবী তৈরি করে তার ছেলে রাগিব রহমত তাজবীর নাম মামলায় রয়েছে বলে গত ৪ জানুয়ারি একটি চক্র মব সৃষ্টি করে যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে হাজতে আটক থাকাকালীন থানার ওসি, ইন্সপেক্টরসহ (তদন্ত) অন্যান্য কর্মকর্তাদের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তার ছেলের সক্রিয় অংশগ্রহণের ছবি, ফুটেজ, ভিডিও ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং স্থানীয় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হওয়ার সকল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন। তার ছেলের নাম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এজাহারে দেয়া হয়েছিল হয়রানি ও মামলা বাণিজ্যের জন্য তা প্রতীয়মান হওয়ায় ছেলেকে মুক্তি দেয়া হয়। পরে মামলার বাদীকে থানায় হাজির করা হলে বাদী তদের চেনে না বলে জানায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২ আগস্ট কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় তার বাসার দরজা খুলে ডিবি ওয়ারি বিভাগের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ খালেদ মোল্লা সাদা পোষাকে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন পুরুষকে নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে। তখন বাসায় তার ছেলে ও কাজের মহিলা ছাড়া কেউ ছিল না। ওই নারীকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে তারা বাসার নিচে নামে। পরে থানা পুলিশ এসে ওই খালেক মোল্লাসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ওই ইন্সপেক্টর স্থানীয়দের কাছে ভুল স্বীকার করে জানায়, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ও খোঁজ-খবর না নিয়েই অবৈধভাবে অভিযান পরিচালনা করে শ্লীলতাহানি ও হয়রানি করেছেন বলে জানায়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার বাদী ওয়াসী উদ্দিন আলো মামলা বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করে জানান, যদি বাণিজ্যের কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে তা দেখাতে বলেন। আমি কোনো ধরণের মামলা বাণিজ্যের সাথে জড়িত নই।
শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে ডিবির ওয়ারি বিভাগের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ খালেদ মোল্লা জানান, এমন ধরণের ঘটনা ঘটেনি। আর ওই এলাকায় অভিযান চালানোর আগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর বাসার ভেতরে ৪/৫ জন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্লীলতাহানিকর কিছু ঘটেনি। তবে তার ছেলের বিষয়ে পূর্বে জানতে পারিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরেছি বলে জানান তিনি।