প্রকাশ: বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫, ২:৫৭ পিএম

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি ভারত সীমান্তঘেষা গারো পাহাড় অধ্যুষিত জেলা শেরপুরে। জেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি নিয়ে নাগরিক মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে শেরপুর প্রেসক্লাব।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটায় জেলা শহরের খোয়ারপাড় (শাপলা চত্বর) মোড় থেকে অস্টমীতলা (পুলিশ লাইন্স) মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার লোক অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
শেরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে জেলার সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবীসহ ছোট বড় সব সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একাগ্রতা ঘোষণা করেছে।
সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে শেরপুরকে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত করা হয়।নকলা , নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ঝিনাইগাতী ও শেরপুর সদর পাচ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই জেলা। সেই থেকে ৪১ বছর অপেক্ষা করেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জেলার প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষের প্রত্যাশা কখনো পূরণ হয়নি।জেলায় উন্নীত হওয়ার সাড়ে তিন যুগ পরও শেরপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারী অফিস নেই। পার্শ্ববর্তী জামালপুর অফিস থেকে এসব সংস্থার লোকজন শেরপুরের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে শেরপুরবাসী অনেক সরকারী সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই জেলায় নেই মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রেললাইন ইত্যাদি। পর্যটন সমৃদ্ধ শেরপুরে নেই ট্যুরিস্ট পুলিশ। সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় যুগ যুগ ধরে বন্য হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। এসব উপজেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ভাষা বা জীবনমান উন্নয়নে তেমন কোন সরকারি কার্যক্রম দেখা যায়নি।
সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে শেরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ৫ দফা ন্যায্য দাবি নিয়ে মাঠে নামছে জেলায় বসবাসরত নাগরিকরা। শেরপুর জেলাবাসীর দাবিগুলো হলো,(১) কৃষি, প্রযুক্তি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে আধুনিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন (২) আধুনিক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি মেডিকেল কলেজ অথবা বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ (৩) শেরপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) কে পূর্ণাঙ্গ কৃষি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর (৪) যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত শেরপুর জেলাকে রেলপথের সাথে সংযুক্ত করা এবং (৫) জেলার পর্যটন এলাকায় আধুনিক হোটেল-মোটেল স্থাপন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও বন সংরক্ষণ করাসহ পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করতে হবে।
এ বিষয়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা বলেন, ‘আমাদের শেরপুর জেলা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক গেড়াকলে পিছিয়ে আছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পর্যটন, যোগাযোগ সবক্ষেত্রেই। আসুন পিছিয়ে পড়া শেরপুর জেলাকে এগিয়ে নেই। আওয়াজ তুলি সবাই একসাথে। দলমত নির্বিশেষে একসাথে শেরপুরবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এই দাবিগুলো আমাদের যৌক্তিক অধিকার ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবি আদায়ে জোর আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান তিনি।