
বছর ঘুরে আবারও এসেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ।
ঈদ মানে এক অনাবিল উল্লাস ও উচ্ছ্বাসের ঝর্ণাধারা। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের সকাল যেন রঙিন হয়ে ওঠে ছোট-বড় সবার কাছেই। পশ্চিমাকাশে ঈদের একফালি চাঁদ উঠতেই চলে আসে উৎসব উদযাপনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। গোধূলি লগ্ন পেরিয়ে ঈদের বাঁকা চাঁদের মোহনীয় স্বর্ণালি আলোর আভা দশ দিগন্তে ছড়িয়ে পড়তেই যেন কচিকাঁচার মনে বয়ে যায় খুশির বন্যা। আর ছোট্টদের আনন্দ উদযাপনের মাঝেই যেন সেই হারানো সোনালি শৈশব খুঁজে ফিরেন প্রৌঢ়রা।
পবিত্র রমজান মাসজুড়েই মুসলমানদের প্রত্যাহিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল সাহরি, ইফতার ও তারাবি। নাজাতের আশায় তাই আজ সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের দুই রাকাআত ওয়াজিব নামাজের পর আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে সবাই চোখের পানি ছেড়ে দেন। জীবনের সব পাপ ও অকল্যাণ থেকে মুক্তি ও জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ চেয়ে প্রতিটি ঈদ জামাতেই তাই সমস্বরে উচ্চারিত হয় আমিন আমিন ধ্বনি।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ পদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্য, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মোনাজাতের আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময়ে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীসহ বিদেশে অবস্থানরত সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পর দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে, খুব সকাল থেকেই জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ইসলামি বয়ান চলছিল।
সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সকাল ৮টায়, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় এখানে আরও চারটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দান, দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ মাঠ ময়দান, বাগেরহাটের বিশ্বঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশালসহ দেশজুড়ে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ঈদের নামাজ আদায় করেন বঙ্গভবনে। সেখানে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করেন।
এদিকে সুলতানি-মুঘল আমলের ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঢাকার রাজপথে হয়েছে ঈদের আনন্দ মিছিল। ঈদকে আরও উৎসবমুখর করতে এই মিছিলের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। যেখানে ঢাকার ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই মিছিল পেয়েছে আরও বর্ণিল রূপ।
মিছিলে ছিল সুসজ্জিত পাঁচটি শাহী ঘোড়া, ১৫টি ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ড পার্টি ও বাদ্যযন্ত্র। ছিল সুলতানি-মুঘল আমলের ইতিহাসচিত্র সম্বলিত পাপেট শো, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীদের সেমাই ও মিষ্টি খাওয়ানো হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই আয়োজন শেষ করা হয়।
এছাড়া আজ বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়সহ বর্ণিল নানা আয়োজন থাকছে রাজধানীসহ দেশজুড়ে।