
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যাদের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন রয়েছে তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
তবে রিটার্ন দাখিল করলেই যে আয়কর দিতে হবে তা নয়। কারো আয় যদি করযোগ্য না হয় তাহলে কর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু রিটার্ন জমা দিলেই হবে।
প্রতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ মাস জরিমানা ছাড়া বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। ৩০ নভেম্বর দেশে আয়কর দিবস হিসেবে পালিত হয়। এদিনই ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমার শেষ তারিখ।
২০২২-২০২৩ অর্থবছর থেকে ই-টিআইএন’র স্থলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার রশিদ (প্রাপ্তি স্বীকার বা জমা স্লিপ) বা ট্যাক্স সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়। অন্তত ৪০ ধরনের সেবায় আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করায় করদাতাকে নির্ধারিত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরামর্শ দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
কারণ এরপরই রিটার্ন দাখিল করলেই জরিমানাসহ ৬ ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন করদাতারা। একই সঙ্গে নতুন আয়কর আইন-২০২৩ অনুসারে এ বিষয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
যদিও কোনো করদাতা কর্তৃক ৩০ নভেম্বর বা কর দিবসের পরে রিটার্ন দাখিল করতে পারলেও অন্তত ৬ ধরনের সুবিধা পাবে না। যার মধ্যে রয়েছে-
*কর অব্যাহতির সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না।
*কর মুক্ত আয়ের সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না অর্থাৎ তার যেকোনো ধরনের কর মুক্ত আয় করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
*হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না।
*কোনো ধরনের বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত সুবিধা প্রাপ্ত হবে না।
*আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭৪ অনুযায়ী তাকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
*আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৬ অনুযায়ী তাকে নির্ধারিত হারে জরিমানা পরিশোধ করতে হবে
আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে আরও যেসব সমস্যায় পড়তে পারেন-
*আয়কর রিটার্ন ঠিক সময়ে জমা দেন না তারা পরবর্তীতে কোনো ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন না।
*ধরুন, আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন দীর্ঘদিন। হঠাৎ প্রয়োজন হলো বিদেশ যাওয়ার। ভিসা সহজে মিলবে না আপনার। কেননা আয়কর জমা দেওয়ার সব তথ্যই আপনাকে সেখানে দাখিল করতে হবে।
*আইন অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি সময়মতো আয়কর রিটার্ন দিতে ব্যর্থ হন, এক্ষেত্রে অধ্যাদেশ অনুযায়ী এক হাজার টাকা অথবা আগের বছরের ট্যাক্সের ১০% জরিমানা করা যাবে। এ দুটির ভেতরে যেটি পরিমাণে বেশি সেই অঙ্কটি পেনাল্টি হতে পারে।
*কয়েক বছর ধরে যদি কেউ রিটার্ন দাখিল না করেন তাহলে ওই জরিমানা ছাড়াও যতদিন ধরে তিনি রিটার্ন দেননি ওই পুরো সময়ের দিনপ্রতি ৫০ টাকা করে জরিমানা হতে পারে।
*পুরোনো করদাতা হলে আগের বছর যে পরিমাণ অর্থ আয়কর হয়েছে সেটিসহ ওই অর্থের ৫০% পর্যন্ত বাড়তি দিতে হতে পারে।
*যারা করযোগ্য হওয়ার পরও একেবারেই কর দেন না, তাদের ক্ষেত্রে, তিন ধরনের জরিমানা করা হয়। একটি হলো যে পরিমাণ কর বকেয়া হয়েছে সেটি ছাড়া আরও ২৫% বাড়তি জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
*দ্বিতীয়টি যে পরিমাণ কর বকেয়া হয়েছে তার ওপর ২% হারে মাসিক সরল সুদ। যে পরিমাণ কর বকেয়া হয়েছে তার সমপরিমাণ জরিমানা।