প্রতিষ্ঠিত ৭ সন্তানের বাড়িতে ঠাঁই হয়নি বাবা-মার, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩, ৭:০০ পিএম আপডেট: ০৫.০৫.২০২৩ ৭:০৪ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কৌশলে অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে মা শেরিনা বেগম (৮৫) ও বাবা দাহারুল ইসলাম (৯০) বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন সন্তানেরা। সাত সন্তানের দুইজন শিক্ষক, বাকিরাও প্রতিষ্ঠিত হলেও কারো বাড়িতে ঠাঁয় হয়নি বাবা-মার। নিরুপায় হয়ে উপজেলার পুকুরিয়া এলাকায় বাল্যকালের বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। 

এমন খবর পেয়ে তাদের পাশে দাঁড়িযেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হায়াত। বৃহস্পতিবার (০৪ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামে দাহারুল ইসলামের বাল্যবন্ধু আমিনুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজ-খবর নেন ইউএনও। 

এর আগে বুধবার (০৩ মে) উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের কামাটোলা বাবুপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাদের বের করে দেন সন্তানরা।

বৃদ্ধ দাহারুল ইসলাম বলেন, আমার নিজ ছেলে-মেয়েরা আমাদের ভরণপোষণ ও দেখাশুনা না করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী এখন অসহায় জীবন-যাপন করছি। 

কান্না করতে করতে তিনি আরও বলেন, আমাদের সাত ছেলে-মেয়ে। তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত। দুজন শিক্ষক ও একজন ব্যবসায়ী। কিন্তু সবাই আমাদের দ‚র দ‚র করে বের করে দিয়েছে। আমরা এখন আমার বাল্যকালের বন্ধু কানসাট ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামে আমিনুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয়ে আছি।

বৃদ্ধা শেরিনা বেগম বলেন, বড় ছেলে রায়নুল হক ঢাকায় ব্র্যাকে চাকরি করে। মেজো ছেলে বাগির আলম ভারতের বাসিন্দা। সেজো ছেলে ইমরান আলি শাহবাজপুর সোনামসজিদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। ছোট ছেলে সাইদুর রহমান শিবগঞ্জের বড় ব্যবসায়ী। মেজো মেয়ে পারচৌকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর এক মেয়ের স্বামী তারাপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দুজনের ১৩ বিঘা জমি ও ৪০ লাখ টাকা ছিল। ছেলে-মেয়েরা হাতিয়ে নিয়েছে। সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর কেউ আশ্রয় না দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এমনকি আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দুটিও তাদের কাছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানায়, এলাকার কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবারগুলোর মধ্যে দাহারুল-শেরিনার পরিবার অন্যতম। ভাই বোন বেশি হওয়ায় পিতামাতার দায়িত্ব কেউ নিতে চায় না। সন্তানরা সবাই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কারণেই বুধবার (০৩ মে) বৃদ্ধ দম্পতি বাড়ি ছাড়া হন। 

দাহারুল-শেরিনার সন্তান ও শাহবাজপুর সোনামসজিদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

তিনি বলেন, বাবা-মা সব সম্পত্তি সব ছেলেমেয়েদের ভাগ করে দিয়েছেন। সর্বশেষ চার বছর আগে বাগান বিক্রির ৮৫ লাখ টাকা ভাগের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা পেয়েছি। চার বছর ধরে আমি তার বাবা-মার দেখভাল করি। 

অন্য ভাই-বোনেরা কেউ তাদের খোঁজ নেন না। সম্প্রতি পারিবারিক ঝামেলার কারণে ভাই বোনদের কিছু দিনের জন্য দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানালেও সাড়া পায়নি। এতে বাবা-মা ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে, আরেক ছেলে রায়নুল ও সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোনে ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান। 

তারা বলেন, আপনারা আমাদের সাত ভাইবোনকে একত্রিত করেন, তারপর যা বলার বলব।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হায়াত বলেন, দাহারুল-শেরিনার সন্তানদের উচিত হবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নৈতিকতার সঙ্গে জন্মদাতা ও গর্ভধারিণী মাকে আশ্রয় দিয়ে সেবাশুশ্র‚ষা করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৃহস্পতিবার তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে জেলা প্রশাসক স্যার এই দম্পতির বিষয়ে খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন। এরই প্রেক্ষিতে রাতেই তাদের কাছে ছুটে যায় এবং খোঁজ-খবর নেয়। 

ইউএনও আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদেরকে কিছু ফলম‚ল, খাবার ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের সকল দায়-দায়িত্ব নিয়ে তাদের ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন। জীবন ধারনের জন্য সকল ব্যবস্থা করা হবে। আমরা সবসময় তাদের পাশে রয়েছি। এই ঘটনার আর কোন যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

জ/আ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  চাঁপাইনবাবগঞ্জ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft