সেই ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড়ের আজ একি হাল!
প্রকাশ: সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩, ২:৫৪ পিএম

সেই ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড়ের আজ এ কি হাল! সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলাজুড়ে রয়েছে বিস্তৃীর্ন বনাঞ্চল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এ এলাকাজুড়ে রয়েছে বিশাল প্রাকৃতিক ও সৃজিত বন। 

যেখানে আজ থেকে মাত্র ১০/১৫ বছর পূর্বেও ছিল শাল- গজারির গহীণ অরণ্য। ছিল নানা প্রজাতির প্রাণীবৈচিত্রের অভয়ারণ্য। সেই গহিণ অরণ্য যেমন ধ্বংস করা হয়েছে। তেমনই পশু-পাখি থেকে শুরু করে বাঘ-ভল্লুক, সিংহ-হরিণসহ জীব-জন্তুু জানোয়ারও আজ বিলুপ্তির পথে। 

পাহাড় ধ্বংস, প্রাণী বৈচিত্রের আবাসস্থলে মানুষের অবৈধ ঘনবসতি গড়ে উঠায় হিংস্র জীব-জন্তুু-জানোয়ার আজ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যে পাহাড়ে জীব-জন্তু জানুয়ার থাকতো সে বনেই অবৈধ দখলদাররা ঘনবসতি গড়ায় আবাসস্থল হারিয়ে কিছু কিছু জীব-জন্তুু জানোয়ার খাদ্য ও বাসস্থানের সন্ধাণে চলে আসছে লোকালয়ে। বনাঞ্চলে হয়ে পড়ছে জীববৈচিত্র শুন্য। আশ্রয় ও খাদ্যের অভাবে বন্যহাতির পাল আসছে লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধাণে। ভাংছে বাড়িঘর। খেয়ে সাবার করছে খেতের ফসল। হাতি তাড়াতে বিঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে নিড়িহ জনগণ। 

জানা যায়, বন বিভাগের গাফিলতি ও অবহেলা এবং সংরক্ষণের অভাব ও বনা ল বেদখলে বাড়ী-ঘর নির্মাণের সহযোগীতায় জনবসতি গড়ে উঠায় এবং  ধ্বংসের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্যবাহী জীববৈচিত্র্য। প্রবিণ লোকজন বলেন, মাত্র ১ যুগ আগেও এখানকার ছোট-বড় ও মাঝারি পাহাড়ী টিলা ও সমতল পাহাড়ে ছিল অসংখ্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। 

গারো পাহাড়ের শতবর্ষী ডা. আব্দুল বারী, আলহাজ্ব, শরিফ উদ্দিন সরকার, আলহাজ্ব, রেজাউর রহমান মাষ্টার, আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা ও সরোয়ারর্দী দুদু মন্ডল দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, তখন গহীন অরণ্যে অবাধে ঘুরে বেড়াত বাঘ, ভালুক,মেছো বাঘ, হারিণ, বানর, হুনুমান, শিয়াল সহ হিংস্র জীব-জন্তুু-জানোয়ার। পাখ-পাখালীর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকতো গারো পাহাড়।

অবাধে ঘুরে বেড়াতো হাতি বাঘ, ভালুক, হরিণ, শিয়াল, ময়ূর, বনমোরগ মুরগি,আরো কত নাম না জানা পাখ-পাখালী। দেখা যেতো বানর, হুনুমান, কাঠবিড়ালী,কটাবানর সহ নানা জীব-জন্তুু-জানোয়ার। তাছাড়া চিল, শকুন, কাঁনিবক, জাইঠাবক, ঘুঘু, শালিক, মাছরাঙ্গাঁ, বউকথাকউ, ধনেশ পাখিতো ছিলই। 

পাহাড়ী নদী-নালা, খাল-বিল ও ঝড়নায় ছিল বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ। কিন্তুু আজ সেই জীববৈচিত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। যাও টিকে আছে তারও অস্তিত্ব হুমকির মুখে। অথচ এককালে গারো পাহাড়জুড়ে ছিল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। কিন্তু বাড়ছে জনবসতি, মানুষের সংখ্যা, কমছে পশু-পাখি-জীব-জন্তুু-জানোয়ারের সংখ্যা। বিলুপ্ত হয়ে গেছে স্তনপায়ী বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ। পাক-পাখালী। 

গারো পাহাড়ের নওকুচি গ্রামের মো: আমেজ উদ্দিন ও প্রবীণ কোঁচ নেতা শ্রী. ধীরেন্দ্র কোঁচ বলেন, মাত্র ১০-১২ বছর আগেও গারো পাহাড় ছিল গহিন অরণ্য। দিনদুপরে ও সীমান্তবর্তী গভির অরণ্যে বাঘ-ভালুক, হরিণ, হাতির ভয়ে মানুষ চলাফেরা করতে পারতো না। তখন বাঘ, ভালুক, হাতি, বনগরু ও শিয়ালের ডাক-চিৎকারে পাহাড়ী মানুষের ঘুম ভেঙ্গে যেত। গাছে গাছে, ডালে ডালে ছিল বানরের দল, অবাধে সারা আকাশজুড়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতো শকুন, চিল,বক, ঘুঘু আর কতই না নাম না জানা পাখ-পাখালি। কিন্তু পাহাড়ে জনবসতি-জনসংখ্যাবৃদ্ধি ও অবাধ বৃক্ষনিধনে বনাঞ্চল ধ্বংসে চরম হুমকির মূখে পড়ে জীববৈচিত্র। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যেই অনেক জীব-জন্তু-জানোয়ার, পশু-পাখ-পাখালী বিলুপ্তই হয়ে গেছে। 

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ফারুক আল মাসুদ বলেন, গারো পাহাড়ের প্রাণীবৈচিত্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। যে কোনো ভাবেই হোক এই জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা বদ্ধপরিকর। এ জন্য শিকারীরাও যাতে এই জাতীয় সম্পদ শিকার করতে না পারে, সে জন্য স্বজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে বন বিভাগকে। আমরা সহযোগীতায় প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেআইনী শিকার ও তৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।   

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  গারো পাহাড়  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft