প্রকাশ: শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:২০ পিএম

গরু পালন করে সচ্ছলতা এসেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামের দিপ্তী রানীর পরিবারে। এই গাভীর আয় থেকেই স্বামীকে দোকান করে দেয়া ও ছেলে মেয়েদের পড়া লেখার খরচ চলছে।
তারা এখন বাস করছেন পাকা বাড়িতে। অথচ বিয়ের পর তাদের সংসার সচ্ছল ছিল না। অভাব অনটন লেগে থাকত। এই অবস্থায় পরিবারের একটু সচ্ছলতার জন্য ২২ বছর আগে একটি বকনা বাছুর দিয়ে এই খামার শুরু করেন।
আজ তার খামারে ৯ টি গাভী ছাড়াও রয়েছে কয়েকটি বাছুর। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লিটার দুধ বিক্রী করেন তিনি। বর্তমান বাজারে প্রতি লিটার দুধ ৭০ টাকা হিসারে প্রতিদিন ২৪৫০ টাকার দুধ বিক্রী করেন।
এছাড়া প্রতি বছর ৩/৪ টা করে বাছুর বিক্রী করেন যা থেকে তার বাড়তি আয় হয় বলে জানা গেছে। এই খামারের আয় থেকে স্থানীয় কান্দাপাড়া হাটে স্বামীকে চালের দোকান করে দিয়েছেন। দোকানও বেশ ভালো চলে বলে জানা গেছে। তার দেখা দেখি আশপাশ এলাকায় নারীরা খামার করেছেন বলে জানা গেছে।
নতুন খামারী রুপা বেগম জানান আমি ৩/৪ বছর ধরে খামার করেছি এতে ভালই লাভ হচ্ছিল কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে আমরা বিপাকে পরেছি। খাবারের এত দাম যে খামার চালানোই কঠিন হয়ে পরেছে । অনেকেই খামারে গরু কমিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
খামারী দিপ্তী রানী জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারে তেমন সচ্ছলতা ছিল না। অভাব অনটন লেগে থাকত এ অবস্থায় কোন কুল কিনারা পাচ্ছিলাম না। এমন সময় আমাদের এক আত্মীয়র কথামত কোন মতে কিছু টাকা যোগার করে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের বকনা বাছুর কিনি। বাছুরটি লালন পালন করার পর প্রায় এক বছর পর বাছুরটি গাভীতে পরিণত হয়।
আর এই গাভী থেকে কয়েক বছরের মধ্যে বেশ কয়েকটি গাভী হয়। ঐ সময় খাবারের দাম কম থাকায় আমারও বেশ লাভ হতো যা দিয়ে স্বামীর দোকান ছেলে মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালানো ছাড়াও টাকা জমিয়ে ঘর পাকা করেছি। আমার পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। তবে এখন গরুর খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মত আর লাভ হয় না। তবে প্রতি বছর গাভীর দুই-এক টা করে বাছুর বিক্রী করি যা থেকে আমার বাড়তি আয় হয়।
তিনি জানান, এই গাভী পালনে আমার পরিবারে সুখ শান্তি এনে দিয়েছে। তার এই সাফল্যে অনেকেই এসে খামার কারার জন্য পরামর্শ নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পশু হাসপাতালের ভ্যাটেনারী সার্জন ডাঃ আশিষ কুমার দেবনাথ বলেন, দিপ্তী রানী দির্ঘ ২২ বছর ধরে গাভী পালন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। এজন্য তাকে পশু পালনে প্রশিক্ষণসহ নিয়মিত নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
জ/আ