
প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
শনিবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল আটকে দেন। মতিউর রহমানের কুশপুতুলও দাহ করেন তারা।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামান সামি সহ কয়েকজন বক্তৃতাও করেন সেখানে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেসময় উপস্থিত হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনের জেরে গত বুধবার ভোররাতে সিআইডি পরিচয়ে ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে তার সাভারের বাসা থেকে তুলে নেয়া হয়।
পরে ওই প্রতিবেদনে ‘মিথ্যা ও জাতির জন্য মানহানিকর’ তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ ও প্রচারের অভিযোগে সেই রাতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয় শামসের বিরুদ্ধে। পরে আরেকটি মামলা হয়, সেই মামলায় শাসসের সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পাদককেও আসামি করা হয়।
সেই মামলায় শামসকে কারাগারে পাঠানোর পর এখন মতিউর রহমানকেও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
শনিবারের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ নেতা জামান সামি বলেন, “তারা (প্রথম আলো) সব সময়ই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এসব দেখে আমরা বসে থাকতে পারি না। আমরা এর বিচার চাই।”
সমাবেশে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী শাহ ইবনে সোয়াদ বলেন, “স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই কাজ করা হয়েছে। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।”
এদিকে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মামলা এবং শামসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। সাংবাদিক শামসকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে আসছে।
এই প্রসঙ্গ ধরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ অবিলম্বে স্থগিত করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফোলকার টুর্ক।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ কথা জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তার্ক।
তিনি বলেন, 'আমি উদ্বিগ্ন যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও ভয় দেখাতে এবং অনলাইনে সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।'
তুর্ক আরও বলেন, 'আমি কর্তৃপক্ষকে আবারও এর (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) ব্যবহারে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ আরোপ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে এই আইনের বিধানগুলোকে ব্যাপকভাবে সংস্কারের আহ্বান জানাচ্ছি।'
জ/আ