প্রকাশ: বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩, ৭:০৮ পিএম

সিরাজগঞ্জ তাড়াশ উপজেলায় বোরো ধানক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো সুফল না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। কাগজ কলমে উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের দেখা মিলে না।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানের ক্ষেতে ছড়ি থেকে সবেমাত্র শীষ বের হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ধানের ওই শীষে পোকা লেগেছে। পোকা ধানের শীষগুলো ছিদ্র করে ফেলছে।
এরফলে ওই ছড়িতে ধান না হয়ে শুকিয়ে সাদা (চিটা) হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকার আক্রমণ থেকে ধান রক্ষা করতে পারছেন না তারা। এতে প্রতি বিঘা জমিতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মণ করে ধান কম পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ভাদাশ গ্রামের কৃষক শাহিন আলম বলেন, বোরো ধান রোপণের প্রথমে কোনো পোকা আক্রমণ দেখা যায়নি। এখন ছড়ি বের হবে এমন সময় হঠাৎ ক্ষেতে ব্যাপকভাবে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক দেওয়ার পরেও কোনো ফল পাচ্ছি না। বাজারে যে কীটনাশক পাচ্ছি তাই ব্যবহার করছি। উপজেলার কৃষি অফিস থেকেও কোনো কর্মকর্তা আসেনি পরামর্শ দেওয়ার জন্য।
বেত্রাশিন গ্রামের বড়পুকুর পাড়ের কৃষক শাহ আলম বলেন, ধানে পোকার আক্রমণ থামছে না। এ পর্যন্ত ৬-৭ বার জমিতে কীটনাশক দেওয়া হয়েছে কিন্তু আক্রমণ থামছে না। আগামীতে আরও কতবার যে কীটনাশক দেওয়া লাগবে তার কোনো হিসাব নাই। দুরবস্থায় কোনো কৃষি অফিসের সহযোগিতাও পাচ্ছি না।
ওয়াশিন গ্রামের কৃষক মামুন হোসেন বলেন, ধানের ছড়ি বের হওয়ার আগেই ধানের আগা মরে যাচ্ছে। তাহলে ফলন কেমনে ভালো হবে। ধানে এতো পোকা আক্রমণ করলে ফলন কম হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন বোরো ক্ষেতে পোকার আক্রমণ করলেও কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ মাঠ পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
জ/আ