
মহান স্বাধীনতার মাসে শেরপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনিস্টিউট-ধানক্ষেতে সবুজ-বেগুনি চারা রোপনে ফুটিয়ে তোলেছেন-জাতীয় পতাকা। কাজটি করেছেন শেরপুর এটিআই’র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো.সাইফুল আজম খান।
শেরপুর শহরের সড়কের দু’পাশ মাড়িয়ে বিস্তৃত দেয়ালে ঘেরা সবুজ কৃষি জমিতে চোখ রাখতেই দেখা যায় এ অপরুপ চিত্রকর্ম। জিঙ্ক সমৃদ্ধ সবুজ ও বেগুনি ধানের মিশ্রণে জাতীয় পতাকার আদলে এক অনন্য শস্যচিত্র। দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে দর্শনার্থীরা।
জাতীয় পতাকার চতুর্ভুজের বেশিরভাগ জুড়ে লাগিয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু’ জাতের সবুজ রঙের ধান। মাঝখানে বৃত্ত নির্মাণ করেছেন জিঙ্ক সমৃদ্ধ বেগুনি রংয়ের ধান গাছ দিয়ে। এরপর পতাকার অংশটুকু আকর্ষণীয়ভাবে দৃশ্যমান রাখতে পুরো জমিতে রোপণ করেছেন সবুজ ধান।
জেলা শহর থেকে সদর হাসপাতালের দিকে প্রধান সড়ক থেকে মাঠে তাকালেই চোখে পড়ে সবুজ ভূমিতে জাতীয় পতাকার আদলে ধানখেত। এ পথে চলাচলকারী পথচারীরা থমকে দাড়ান শস্য চিত্রে জাতীয় পতাকা দেখতে। অনেকেই আগ্রহ নিয়ে ছবি তুলছেন সবুজ ও বেগুনি রঙের ধান ক্ষেতের। মোবাইলে ধারণ করা ছবি শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। পতাকার দৈর্ঘ্য ১৬০ ফুট, প্রস্ত ৯৬ ফুট এবং লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ ৩২ ফুট। পতাকার সবুজ অংশে বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ ও হাইব্র্রিড ধান এবং লাল অংশে দুলালী সুন্দরী ধান ব্যবহার করা হয়েছে।
কথা হয় শস্য চিত্র তৈরির রুপকার এটিআই’র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইফুল আজম খানের সাথে। তিনি বলেন, ’শিক্ষার্থীদের দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী করা,বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকার প্রতি ধারনা দেয়া ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে’।
তিনি আরো বলেন, ২৪ মার্চ খামারে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন করেন শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি। জানা যায়, এ ধানের পুষ্টিমান অন্য ধানের চেয়ে বেশি ও চালের ভাত খেতে সুস্বাদু। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও বেশ উপকারী। এ কার্যক্রমে চাষাবাদ বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ বলেন, আর্টের মাধ্যমে যেকোনো শিল্পকর্ম ফুঁটিয়ে তুলতে পারা একটি শৈল্পিক গুণ। এতে মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার বিকাশ ঘটে শিল্পকর্মে। ক্যাম্পাসে এমন শস্য ক্ষেত তৈরিতে অধ্যক্ষ স্যার নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আমরাও ব্যবহারিক কাজে এ ক্ষেতের পরিচর্যার সুযোগ পেয়েছি।
পথচারী আলমগীর হোসেন বলেন, সবুজ-বেগুনিতে এত সুন্দর ধানের জমি আর দেখিনি। লোকমুখে শুনে জমি দেখতে আসেছি। এ জাতীয় ধান আবাদে আমারও ইচ্ছে করছে। এ ধানের চারা পেলে আমিও চাষ করবো।
ঢাকলহাটির বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ধান চাষ হচ্ছে, আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি আজ প্রথম দেখার সুযোগ পেলাম। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আমার বাড়ি এ এলাকায়ই, প্রতিদিন বিকালে এসে বসে থাকি ও সুন্দর্য উপভোগ করি।
জ/আ