
গাড়ীটার নেই কোন ফিটনেস, উপরন্ত মাদক সহ থ্রি-হুইলারে ধাক্কা দেয়ায় একজনের মৃত্যু হলো! এমন একটি মাইক্রোবাস থানায় আটকের পর কিভাবে ছাড়া পায় তা নিয়ে সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গোপনীয়তা রক্ষা করে গাড়ীটি ছেড়ে দিয়েছে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ। আলোচিত ঐ ঘাতক মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ-১১-৩২৪০) থানায় আটকের সাত দিন পরে অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
গত ১৮ মার্চ জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার লক্ষীরহাট এলাকায় (বোদা দেবীগঞ্জ মহাসড়কে) মাইক্রোবাসটি একটি থ্রি-হুইলারে ধাক্কা দেয়।
এতে থ্রি-হুইলারে যাত্রী হিসেবে থাকা দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স কুন্তি রানী গুরুত্বর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যেও একজন গুরুতর আহত হন এবং অদ্যাবধি ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দূর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ পৌঁছে যান এবং গাড়ী থেকে কোমল পানিয়ের বোতলে বাংলা মদ খুঁজে পান। পুলিশ সেদিনই জানিয়েছিলেন, তাদের ধারনা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ী চালানোর কারণে দূর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এ ঘটনায় মৃতের পরিবার কোন মামলা দায়ের না করলেও মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রী শরীফুল ইসলাম (যিনি এখনো চিকিৎসাধীন) বলেন তারা এ বিষয়ে মামলা করতে চান।
তবে, শরীফুলের জামাতা মানিক হোসেন বলেন, মামলা করতে চাইলে ওসি নিরুৎসাহিত করে বলেছেন, "যাদের লোক মারা গেছে তারাই মামলা করে নাই । আপনারা কিসের মামলা করবেন!"
তারা ফিটনেস বিহীন ঘাতক গাড়ীটি ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল হোসেন বলেন, গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক আছে। কোন মামলা হয়নি তাই গাড়ী ছেড়ে দিয়েছি।
অথচ, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গাড়ীর ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ করা নেই। ঢাকা মেট্রো-চ-১১-৩২৪০ নম্বরের গাড়ীটির ৪ অক্টোবর ২০২২ সালের পর থেকে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা হয়নি। এতে করে গাড়ীটির ৩৯ হাজার টাকা ফি বকেয়া রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এস.এম. সিরাজুল হুদা বলেন, 'আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আপনার সাথে কথা বলবো'।