প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩, ৩:১০ পিএম

সিরাজগঞ্জে রমযান উপলক্ষে সলপের ঐতিহ্যবাহী ঘোলের দোকান গুলোতে চলছে জমজমাট ব্যবসা। রমযানের শুরু থেকেই ঘোলের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুন। এ কারণে ঘোল কারখানার কর্মীদের কর্মকান্ড বেড়ে গেছে অনেক।
উল্লাপাড়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বেলকুচি, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ সদর শাহজাদপুর উপজেলা থেকেও ক্রেতার প্রতিনিয়তই সলপ ষ্টেশনে ঘোল ও মাঠা কিনতে আসেন। প্রতি কেজি ঘোল বিক্রি হচ্ছে আগের মতই ৮০ টাকা এবং মাঠা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা ধরে।
জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে তৎকালীন সলপ সান্যাল জমিদারদের পৃষ্টপোষকতায় সলপে ঘোলের কারখানা গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সলপ থেকে ঘোল কলকাতা যেত এই ঘোল। সেই সময় থেকেই সলপের ঘোলের খ্যাতি ছড়িয়ে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশে। এখনও সলপের ঘোল রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলা গুলোতেও চাহিদা রয়েছে।
প্রযুক্তি ও সভ্যতার বিকাশে এখন ফ্রিজিং করে ঘোল পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এরফলে ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ঘোল নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। সলপে এখন ৭-৮ টি ঘোলের কারখানা রয়েছে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শত মনের বেশি ঘোল উৎপাদিত হয়।
উৎপাদিত এ ঘোল নিয়মিতই বিক্রি হয়ে থাকে। কারখানার মালিকদের মধ্যে আব্দুল খালেক, আব্দুল মালেক, আব্দুর রাজ্জাকের কারখানায় বেশি ঘোল উৎপাদিত হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জের আব্দুল হালিম, শাহেদ আলী বেলকুচির কাপড় ব্যবসায়ী বারেক মন্ডল ও কামারখন্দের শিক্ষার্থী সুমন জানায়, সলপের ঘোলের স্বাদ অতুলনীয়। আর এ জন্যই মাঝে মাঝেই মটরসাইকেলে এসে ঘোল কিনে নিয়ে যাই।
সিরাজগঞ্জ শহরের ঘোল ক্রেতা হাফিজুর রহমান, শাহানা পারভীন জানান, এই রোজায় প্রতিদিনই আমরা ঘোল ক্রয় করি। শহরের বিভিন্ন এলাকাতে সলপের ঘোল বিক্রী হচ্ছে।
ঘোল বিক্রেতা আব্দুল খালেক জানান, রমযান মাসে তাদের ঘোলের চাহিদা অনেক বেশি। বিশেষত সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাাইকারি দরে ঘোল কিনে নিয়ে যায়। রমযান মাসে ঘোলের চাহিদা বাড়লেও দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি রমযানে প্রতিদিন দুই শতাধিক মন ঘোল বিক্রি হবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন ঘোল ব্যবসায়ীরা।
জ/আ