তিস্তা নদীর বুকে এখন ধু-ধু বালুচর
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০২৩, ২:৪৩ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে আকা বাঁকা পথে প্রবাহমান এবং এক  সময়ের খরস্রোতা তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে কোথাও হাটু অথবা কোমর পানিতে পরিণত হয়েছে। 

এ বছর শুস্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়ে খরস্রোতা তিস্তা নদীর বুকে অসংখ্য বালুচর, কংকালসার, কোথাও বা মরা তিস্তা নামে এখন পরিচিত। নদীর বুকে চলছে বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষ।

নদীটির উজানে ভারত সরকার পশ্চিম বঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে একটি খালের মাধ্যমে শুকনো মৌসুমে নদী থেকে দেড় থেকে দুই হাজার কিউসেক পানি মহানন্দা নদীতে নিয়ে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশে তিস্তা নদীতে এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

তিস্তা বাঁধ প্রকল্প প্রায় অকার্যকর হয়ে পরেছে। হুমকির মখে জীব বৈচিত্র,পানি না থাকায় মৎস সম্পদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে অনেক আগেই। নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ হওয়া ও পানি প্রবাহ না থাকায় শত শত মৎসজীবি পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন মৎসজীবিরা কর্মহীন, বাড়ছে দারিদ্রতা। 

কৃষিতে সেচ সংকট,আর্সেনিক সমস্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করায় তলদেশ ভরাট হয়ে বর্তমানে প্রায় মরা খালে পরিণত হয়েছে। 

নদী ড্রেজিং না করায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে  অসংখ্য বাঁক ও চর সৃষ্টির ফলে বর্ষাকালে নদীর পানি ধারন ক্ষমতা কমে যায় ফলে নদীর দুই তীরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকার বন্যা ও ভাঙ্গনের সম্মুখিন হয়। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী ভাঙ্গনে ফসলি জমি সহ বাড়ি, ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শত শত পরিবার। 

গত বর্ষায় উপজেলার ঘডিয়ালডাঙ্গা ইউপির গতিয়াশাম, বগুড়া পাড়া, খিতাবখাঁ সহ বিদ্যানন্দ ইউপির ব্যাপক এলাকা ভাঙ্গন কবলিত হয়। 

কথা হয় নদী পারের বাসিন্দা মনসুর আলীর (৬৫) সাথে। তিনি বলেন, গতবছর নদী এই এলাকায় (গতিয়াশাম) ব্যাপক ভংচুর করছে বাহে, নদীর যে মুখ দেখা যায় তাতে করে এবারেও খুব ক্ষতি করবে মনে কয়। 

স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক জাহেরুল হক বলেন, নদীর গতিমুখ দেখে মনে হচ্ছে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে গতিয়াশাম, সরিষাবাড়ি, বুরিরহাট এই এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। 

এলাকাবাসীর দাবী সরকার যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন করেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং নদী রক্ষা বিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড.তুহিন ওয়াদুদের সাথে। 

তিনি বলেন, তিস্তা নদীর প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উজানে প্রতিবেশি দেশ ভারত বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে  এবং নতুন নতুন বাঁধ ও খাল খনন করে পানি ধরে রাখার কারণে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদীর করুন অবস্থা। অতি দ্রুত সরকার তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে না পারলে অদুর ভবিষ্যতে এই অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে।

জ/আ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  তিস্তা নদী  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft