
রোজা শুরুর সাথে সাথেই সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম বাড়ায় সংকটে পড়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) রমজানের প্রথম দিন সরেজমিনে গারো পাহাড়ি ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ-মাংসের বাজারের আশপাশে যেতে পারছেন না নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা ব্যক্তিরা।
অগের দিনের চেয়ে বেড়ে গেছে মাছ-মাংসের দাম। সমস্ত মাংসের বাজারে সিন্ডিকেট করে মাত্র এক জন কসাই গরু জবাই করে আর অন্যত্র গরুর মাংস না থাকার সুযোগে যথেচ্ছা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
এভাবে সিন্ডিকেট করে সাব-ইজারাদারকে ওই কসাই একাই গরু জবাই করার শর্তে ২০০০ টাকা প্রতি দিন ইজারার বিনিময়ে গরু-ছাগল জবাই করে অনেকদিন যাবত গলাকাটা দামে মাংস বিক্রয় করছে বলে ক্রেতাগণ অভিযোগ করেছেন।
অপরদিকে গরুর তরল দুধ আগের দিন যেখানে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে তা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০’শ টাকা,৩০ থেকে ৩৫ টাকার কলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হালি, ৩০ টাকা কেজির শসা ৫০-৬০ টাকা, ৬০ টাকা কেজির মুড়ি ৮০ টাকা, ৪০ টাকা হালির লেবু ৫০ টাকা,৬০ টাকার আনারস ১০০ টাকা। তরমুজ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে কেজি দরে। অন্যান্য ফল ও সবজির দামও বেড়েছে দ্বিগুণ।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে ফেলেছেন। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হচ্ছে। রমজানের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলেও মনে করছেন অনেকেই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দামে পণ্য কেনার কারণেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মো: সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল নামে শালচুড়া গ্রামের এক ক্রেতা বলেন, যে কলা আগে ৩০ টাকা হালি বিক্রি হতো তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা চাচ্ছে বিক্রেতারা, অনেক ঘুরেও কেউ কমে বিক্রি না করায় ওই দামেই কিনলাম।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে জনৈক কলা ব্যবসায়ী বলেন, এবার বেশিতে কিনতে হচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ফারুক আল মাসুদ বলেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে গত কয়েকদিন আগেও সভা করেছি। এর পরও যদি কেউ অতিরিক্ত দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোজায় নিত্যপণ্য মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালাবেন বলে তিনি দৃঢ়তার সাথে অভিমত ব্যক্ত করেন।
জ/আ