প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৫:১০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোমবার দুই বর বিয়ে করতে যান হেলিকপ্টারে চড়ে। এরমধ্যে প্রকৌশলী শেখ জহির উদ্দিন মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ও প্রবাসী হৃদয় হক ১২ কিলোমিটার দূরে হেলিকপ্টারে চড়ে আসেন। দু’জনই কনেকে হেলিকপ্টারে করে নিজ বাড়ি নিয়ে যান।
‘শখ’ পূরণেই হেলিকপ্টারে চড়ে গিয়ে তাদের বিয়ের আয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দু’টি বিয়েই এলাকাতে দিনভর আলোচনার খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। শত শত লোক ভিড় জমান হেলিকপ্টার দেখতে। জেলার নাসিরনগর ও আখাউড়া উপজেলায় সোমবার দুপুরে আলোচিত এ দু’টি বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এরমধ্যে নাসিরনগরে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করা শেখ জহির উদ্দিন ওরফে তুন্নান নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রাফিউদ্দিন আহমেদের ছোট ছেলে।
সোমবার দুপুরে বরের গ্রামের বাড়ি উপজেলা সদরের নাছিরপুর থেকে হেলিকপ্টার চড়ে নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামেন। পরে সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরের দাঁতমন্ডল গ্রামের কনে লিগার সুলতানা ওরফে লিসার বাড়ি যান বর। বর ও কনে দুইজনই প্রকৌশলী।
এদিকে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা শরীফ গ্রামের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জুরুর ছেলে ইতালী প্রবাসী হৃদয় হক ১২ কিলোমিটার দূরে একই উপজেলার রাধানগর কলেজ পাড়ায় আসেন হেলিকপ্টারে চড়ে। সোমবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ মাঠে নামেন বর।
নাসিরনগরের বর শেখ জহির উদ্দিন জানান, ২০১০ সালে তার বোনের বড়ও আসেন হেলিকপ্টারে চড়ে। বোন ও ভাগিনার ইচ্ছে ছিল তার বিয়েও যেন হেলিকপ্টারে চড়ে হয়। সেই ইচ্ছা পূরণে এই ব্যতিক্রমিধর্মী এই আয়োজন।
মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে হেলিকপ্টারে চড়ে ছেলেকে বিয়ে করতে পাঠানো প্রসঙ্গে বর জহিরের বাবা রাফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার অনেক বয়স হয়েছে। পরিবারের আগ্রহে আর ছেলে আবদার রক্ষা করতেই এই ব্যতিক্রম আয়োজন।’
আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ি ও বরের নিকট আত্মীয় নাসির উদ্দিন জানান, ইতালী প্রবাসী হৃদয় ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তার শখ পূরণেই মূলত হেলিকপ্টারে করে কনের বাড়িতে আসা। কনেকেও হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জ/আ