চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু ১৬ ফেব্রুয়ারি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৩:৪৩ পিএম আপডেট: ১৪.০২.২০২৩ ৩:৪৯ পিএম

চট্টগ্রামে ৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনভেনশন হলে আজ সকালে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-চেম্বার সভাপতি ও সিআইটিএফ কমিটির উপদেষ্টা জনাব মাহবুবুল আলম, সহ-সভাপতি ও সিআইটিএফ কমিটির উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, মেলা কমিটির কো-চেয়ারম্যানবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ। 

উক্ত সম্মেলনে মেলা কমিটির চেয়ারম্যান এ, কে এম আকতার হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন ও শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে চলছে। চেম্বারের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এসএমই মেলা ও আইটি মেলা নিয়মিত আয়োজন অন্যতম অর্জন। 

অন্যান্য বছরের ন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন করবেন। একই সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গ্রুপ তাদের পণ্য প্রচারে বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন সাজিয়ে তাদের পণ্যের প্রদর্শন ও বিক্রয় দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত রাখবেন। চট্টগ্রাম মহানগরের লাখো মানুষ এই মেলা পরিদর্শন করে তাদের পছন্দমত পণ্য সংগ্রহ করবেন এবং মেলার সার্বিক আয়োজন উপভোগ করবেন। প্রত্যেক বছর এই মেলাকে আমরা কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানোর চেষ্টা করি। 

এবছরও মেলাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আমাদের সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন স্থাপন করেছি। এতে বাতিঘরের সহায়তায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

এছাড়াও মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩.০০ টায় চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে ৩০তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলা উদ্ধোধন করবেন-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’র সম্মানিত মেয়র মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী, চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য এম. এ. লতিফ এমপি এবং দি ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (এফবিসিসিআই)’র সম্মানিত সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন। 

চট্টগ্রাম রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ডে প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে মেলার আয়োজন। মেলা প্রবেশের জন্য টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। 

নগরীর বিভিন্ন স্কুলের প্লে থেকে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা মাসজুড়ে পুরো মেলায় ব্যবহার করা যাবে। মাসব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০.০০টা থেকে রাত ১০.০০টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় ২০ টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৫৬ টি প্রিমিয়ার স্টল, ৯৪ টি গোল্ড স্টল, ৪৮টি মেগা স্টল, ১১ টি ফুড স্টল, ৩ টি আলাদা জোন নিয়ে মোট ৪০০টি স্টলে ৩০০ এর অধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। 

এবারের মেলায় নিজস্ব পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ যেমন-ভারত, থাইল্যান্ড ও ইরান বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, সন্ধানী, চট্টগ্রাম বধির ক্রীড়া ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা এবং রাউজান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আরআইটি)-কে বিনামূল্যে একটি করে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলা অংশগ্রহণকারী ও আগত দর্শনার্থীদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেলা প্রাঙ্গনে চৌকশ পুলিশ বাহিনী ৩ (তিন) শিফটে বিভক্ত হয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। 

পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যগণও বিশেষভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গনে সুদক্ষ প্রাইভেট সিকিউরিটির সদস্যগণ ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গাড়ি সহ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম মেলা চলাকালীন সময়ে সর্বদা মেলা প্রাঙ্গনে অবস্থান করবে। মেলার মাঠের উত্তর-পশ্চিম কর্ণারে পুরুষদের জন্য বিশাল জায়গাজুড়ে মসজিদ ও দক্ষিণ-পূর্ব কর্ণারে নারীর জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নতুন সংযোজন হিসেবে শিশুদের বিনোদনের জন্য মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করা  হয়েছে। মেলা শুধু বাণিজ্যের স্থান নয় এটা নগর জীবনে একে অন্যের সাথে মেলবন্ধনের একটি সুযোগ। তাই বসার সুবিধা সহ ফোয়ারা সমৃদ্ধ ১২,৩২০ বর্গফুট জুড়ে একটি ওপেন প্লাজা রাখা হয়েছে। মেলা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ মেলা পরিদর্শন করবেন। এতে করে সেসব দেশে আমাদের পণ্যের বাজার সমপ্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়গণ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এই মেলা পরিদর্শন করবেন যা দেশীয় শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নারী ও পুরুষের জন্য সম্পূর্ণ পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত আলাদা-আলাদা টয়লেটের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্টল, প্যাভিলিয়ন ও দেশীয় পণ্য উৎপাদনকারী নির্বাচন করে বিশেষ পদক এবং সনদপত্র প্রদান করা হবে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  চট্টগ্রাম   







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft