নেশার টাকার জোগান দিতে সন্তান বিক্রির অভিযোগ, আদালতে মামলা
জহুরুল ইসলাম হালিম, গোয়ালন্দ, (রাজবাড়ী):
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ৮:২৭ পিএম

রাজবাড়ীর পাংশায় নেশার টাকার জোগান দিতে তিন বছরের শিশু সন্তানকে বিক্রির অভিযোগে বাবা আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে শিশুটির মা মোছা. শুকজান খাতুন বাদী হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধ দমন আইন-২০১২ এর ৬ (১) (২) / ৭ ধারায় রাজবাড়ির বিজ্ঞ মানবপাচার বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত আব্দুল কাদের খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাগলবা গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাদের কোনো কাজকর্ম করতেন না। তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। সাংসারিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ওমানে যান আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মোছা শুকজান খাতুন। 

ওমান যাওয়ার সময় তাঁর বড় মেয়ে ফাতেমা (১৮), ছেলে সোবাহান (১৪) ও সুমাইয়াকে (৩) নানি রহিমা কাছে রেখে যান তিনি। বিদেশ যাওয়ার দুই-তিন মাস পর কাদের শাশুড়ির কাছ থেকে সুমাইয়াকে নিয়ে যান। সুমাইয়াকে নিয়ে যাওয়ার তিন-চার মাস পর আব্দুল কাদের শুকজানকে জানান সুমাইয়া হারিয়ে গেছে। 

পরবর্তীতে দুই বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে এসে মেয়ে সুমাইয়ার সন্ধান পান শুকজান। এ সময় তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী নেশার টাকা জোগান দিতে এবং বেশি অর্থের লোভে নারী পাচারকারীদের কাছে বিক্রির জন্য কুমারখালী উপজেলার মমিন মন্ডলের কাছে তাঁর মেয়ে সুমাইয়াকে রেখেছেন। 

এ ঘটনায় গতকাল শুকজান খাতুন বাদী হয়ে উপজেলার ১ নম্বর কয়া ইউনিয়নের গট্টিয়া গ্রামের মৃত মকছেদ মন্ডলের ছেলে আব্দুল মমিন মন্ডলকে প্রধান আসামিসহ স্বামী আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ দমন আইন-২০১২ এর ৬ (১) (২) / ৭ ধারায় রাজবাড়ির বিজ্ঞ মানবপাচার বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী শুকজান খাতুন বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেও মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে পারছি না। আমি আমার মেয়ে সুমাইয়াকে মমিন মন্ডলের বাড়িতে আনতে গেলে তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাদের বলেন, আমার স্ত্রী যে সকল অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা। 

তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের অভাব-অনটনের সংসার। আমার স্ত্রী এ সংসারে থাকবেন না বলে ৩-৪ বছর আগে তিন সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে চলে যান। আমার ছোট মেয়ে সুমাইয়ার বয়স তখন ৩ বছর। 

তখন আমি আমার মেয়ে সুমাইয়াকে লালনপালন না করতে পারায় এতিমখানায় দিয়ে দেব বলে সিদ্ধান্ত নেই। এ সময় আমার প্রতিবেশী মর্জিনা বেগমের ভাই মমিন মন্ডল আমার মেয়েকে লালনপালন করার দায়িত্ব নিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। পরে নিজের মেয়ে হিসেবে লালনপালন করার জন্য বুঝে নেয়।

অপর অভিযুক্ত মমিন মন্ডল বলেন, আমার তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। মেয়ে সন্তান না থাকায় সুমাইয়াকে নিজের মেয়ে হিসেবে লালনপালন করার জন্য এনেছি। এখন পর্যন্ত সুমাইয়া আমার মেয়ে হিসেবেই বাড়িতে রয়েছে। তবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করলেও তাঁদের এখনো বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি বলে জেনেছি। 

মামলার বাদীপক্ষে জেলা জজকোর্টের এ্যাডভোকেট রেশমা নাহার মাহমুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি এজাহার রুপে গণ্য করার জন্য পাংশা মডেল থানাকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft