প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ৮:৪৪ পিএম

রাজবাড়ীর কালুখালীতে জমি ক্রয় করে ৪০ বছরের চলাচলের রাস্তায় কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে ১৬ টি পরিবার। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। এছাড়াও খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয়, খাগজানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাগজানা কিন্ডার গার্টেন এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়েত করতেন।
রাস্তাটি উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগীরা জানান, গত মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মো. মোহাসিন নামের এক ব্যাক্তি রাস্তাটি কাঁটা তারের বেঁড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। মো. মোহাসিন মৃত মুন্নাফ খা’র ছেলে।
এ সময় ভুক্তভোগী পল্লী চিকিৎসক মো. শরিয়ত মন্ডল বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে আমরা দীর্ঘ ৪০/৪৫ বছর চলাচল করে আসছি। রাস্তার পাশে আমাদের জমি ও হিন্দু সম্প্রদায়দের কিছু জমি ছিলো। কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামের মোহাসিন নামের এক ব্যক্তি জমিগুলো ক্রয় করে। জমি ক্রয়ের কিছুদিন পর কাঁটা তারের বেঁড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।
ফলে আমরা ১৬টি পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। মো. মহিরুদ্দীন নামের আরোও এক ভুক্তভোগী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আমরা ছোটবেলা থেকে চলাচল করে আসছি। গ্রামের সবাই আমরা মিলে-মিশে বসবাস করছিলাম। জমিগুলো মোহাসিন ক্রয় করে আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শ্রী শিশির শিকদার অরুফে বাপী ঠাকুর বলেন, আমি ও আমাদের চেয়ারম্যান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে আসছি। জমির মালিক মোহাসিন কে আমি ফোন করেছি সে আমার ফোন রিসিভ করেননি। অন্য নাম্বার দিয়ে ফোন দিয়ে আমার নাম বলা মাত্রই ফোনটি কেটে দেয়। এ ব্যপারে মো. মোহাসিনের বাড়িতে গেলে কাওকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে গালমন্দ করেন এবং বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি কথা বলতে পারবো না।
আমার ভাগিনা আপনার সাথে কথা বলবে। মো. মোহাসিনের ভাগিনা ইসার মোল্লা মুঠোফোনে বলেন, আমার মামার ক্রয় করা জমি। এখানে এলাকাবাসীর অভিযোগ করার কিছু নাই। আপনি তাকে ফোন দিয়েছেন কেন? আপনি লেখলে লেখেন কোন সমস্যা নাই। এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। যতদ্রূত সম্ভব উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষটি সমাধান করা হবে।