
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এসময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, অনেকে না বুঝে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। চাহিদার তুলনায় দেশে পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন ডলারের যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে ৬ থেকে ৯ মাসের খাদ্যশস্য কেনা যাবে।
এদিকে ‘দেশে পেট্রল-অকটেন ফুরিয়ে যাচ্ছে, পেট্রলের মজুত আছে ১৩ দিনের এবং অকটেনের মজুত আছে ১১ দিনের’ এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে অবগত করার জন্য এ তথ্য জানালেন।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুতের কোনো ঘাটতি নেই।
আরও জানিয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডিজেলের মজুত আছে এক মাসেরও বেশি। অকটেন ও পেট্রলের মজুতও পর্যাপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে আমদানি করা ডিজেল।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ পেট্রল ও অকটেন আমদানি করে না বললেই চলে। পেট্রলে এ দেশ আত্মনির্ভরশীল।
অকটেন কিছু পরিমাণ আমদানি করতে হয়, সেটা বুস্টার হিসেবে। আমাদের গ্যাস ফিল্ডের কনডেনসেট থেকেই দেশের চাহিদার সবটুকু উৎপাদন করা হয়। দেশে অকটেন ও পেট্রলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশীয় প্ল্যান্টগুলোতে অকটেন ও পেট্রল উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, যা জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহকে আরও সুসংহত করছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে এসব উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রল সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।
দেশে অকটেনের চাহিদা রয়েছে গড় মাসিক চাহিদা প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও পেট্রলের ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পেট্রলের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা হয়।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ‘পেট্রলের বেশির ভাগটাই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানো হয়। এর সঙ্গে আমদানির সম্পর্ক নেই। 'ডিজেলের মজুত কিছুটা কমেছে। তবে বেশকিছু জাহাজ ইতোমধ্যেই আসতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম কমছে যার ফলে সামনে আমদানি আরও বাড়বে।’
বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও বাণিজ্য) খালিদ আহম্মেদ জ্বালানি তেল আমদানি প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিপিসির চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ লাইন এখনো স্বাভাবিক আছে। সরকার চাইছে দেশে জ্বালানি তেলের ব্যবহার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমাতে। এই লক্ষ্যে আমরা (বিপিসি) কাজ করছি। ইতোমধ্যে সরকার বিদ্যুৎ সেক্টরে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়েছে। পরিবহন সেক্টরেও জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমানোর পরিকল্পনা আছে।’