
ঈদুল আজহায় যেহেতু ঘরে কোরবানির মাংস সারাক্ষণই রান্না হতে থাকে, তাই খাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা সাবধানতা গ্রহন করা প্রয়োজন। কোরবানির ঈদে যেসব চারপায়া প্রাণীকে কোরবানির জন্য বেছে নেয়া হয় সেগুলোর সবই উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। ফলে এসব খাবার খেয়ে যেন কোনো রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না পরতে হয় সেজন্য বিশেষ কিছু বিষয়ে থাকতে হবে সতর্ক দৃষ্টি।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন পড়ে দেখি-
১. প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম মাংস খাবার হিসেবে গ্রহণ করুন। এর চেয়ে বেশি যেনো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২. মাংস খাওয়া ক্ষেত্রে রাউন্ড এবং লোইন বা সিরলোইন অঞ্চলের মাংস বেছে নিন। কারণ এসব স্থানের মাংসে চর্বির পরিমাণ চামড়া ছাড়ানো মুরগির রানের মাংসের চেয়েও কম থাকে।
৩. গরু বা খাসির মাংসে স্যাচুরেইটেড ফ্যাট বেশি পরিমাণে থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত এসব মাংস গ্রহণে রক্তনালিতে চর্বি জমে, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকেরও ঝুঁকি বাড়ে। তাই মাংস কাটার সময় দৃশ্যমান চর্বিগুলো মাংস থেকে আলাদা করে ফেলে দিন।
৪. এসব মাংস রান্না করার সময় বেশি পরিমাণে তেল, মশলা ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
৫. মাংসের চেয়ে মাংসের ঝোল শরীরের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই খাওয়ার সময় যতটা সম্ভব মাংসের ঝোল খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
৬. বেশি ক্ষুধা না লাগিয়ে অল্প ক্ষুধা লাগলেই খাবার খেতে বসুন। এতে মাংস খাওয়ার পরিমাণ অনেকটাই কম হবে।
৭. মাংস রান্না করার পাশাপাশি আরও কিছু স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রাখুন। যেমন সালাদ, নানারকম সবজির আইটেম, ফল, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ইত্যাদি।
৮. মাংস রান্না করার ক্ষেত্রে বেশি তেল, মশলার পরিবর্তে চেষ্টা করুন বার-বি-কিউ, গ্রিল, কাবাব বা অল্প তেল মশলায় রান্না করতে।
আরও পড়ুন: ভুলেও কোরবানির মাংস খাওয়ার পর এই খাবার খাবেন না!
৯. মাংস খাওয়ার মাঝে পানি পান করবেন না। এতে শরীরে মাংস হজম ধীরগতিতে হবে। খাবার দ্রুত হজম করতে খাওয়ার পর টক দই, বোরহানি খেতে পারেন। তবে সফট ড্রিংকস এক্ষেত্রে অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।
১০. যাদের ওজনাধিক্য, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হার্টের সমস্যা, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি কিংবা অন্যান্য জটিল রোগ রয়েছে তারা অবশ্যই ঈদের আগে একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী একটি নতুন ডায়েট লিস্ট তৈরি করুন। পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে পরিমিত পরিমাণে কোরবানির মাংস খান।