সিলেটে বানভাসিদের ঈদ
ভেসে গেছে গবাদি পশু, ফসল আর ভিটা
প্রকাশ: শনিবার, ৯ জুলাই, ২০২২, ১১:৫৬ এএম

তিন দফা বন্যায় সিলেটে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে সেখানকার বানভাসি মানুষের। পানি কমে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও, বহু মানুষ এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে। বাড়ি ফেরা নিয়ে এখনও অনিশ্চিতায় তারা। সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি আলাদা তিনটি স্থানে এখনও বিপদসীমার উপর। তলিয়ে গেছে কুশিয়ারা তীরের সিলেট ও মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল। 

পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় প্রথম দফায় বোরো ধান এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় আমন ধানের ফসল তলিয়ে যায় সেখানকার কৃষকদের। পাশাপাশি বন্যার পানিতে গবাদি পশু, বসত ভিটা, মজুদ খাবার বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে বর্ন্যাতরা। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, ডুবে গেছে দোকানপাট। ঈদের আনন্দ সেখানে একেবারে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। 

অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এখন মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই করছেন। এমন নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থায় সেখনকার বেশিরভাগ মানুষদেরই কুরবানি দেয়ার মতো অবস্থা নেই। এমনকি যাঁরা আগের বছরগুলোতে একাধিক পশু কোরবানি দিয়েছিলেন, এবার তাঁরাও কমদামে পশু কোরবানি দেবেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিমুলতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম বলেন, গ্রামে ১৪০টি পরিবারের বাস। বন্যার পানি প্রতিটি বাড়িতে কোমর থেকে গলা পর্যন্ত ছিল। অধিকাংশ ঘরই ধসে পড়েছে। সবার আসবাব, পোশাকসহ যাবতীয় সামগ্রী ভেসে গেছে। গ্রামটিতে কারোরই কোরবানি দেওয়ার মতো অবস্থা নেই।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগরসহ ৭টি উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখাসহ ৪টি উপজেলার ২০টির বেশি ইউনিয়ন এখন বন্যা কবলিত রয়েছে। কয়েক দিন পানি কিছুটা কমেছে। হাকালুকি হাওর ও কাউয়াদিঘি হাওরের তীরবর্তী এলাকা এখনও ডুবে রয়েছে। রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত।

সরকারি হিসাবে জেলায় ৪০ হাজার ৪১টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অন্তত ৩০ লাখ। গত ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া বন্যায় এখনো অন্তত ৪০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং বলেন, জেলার মধ্যে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ। এ উপজেলার অনেকেই কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছেন। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ঈদের দিন এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বন্যাকবলিত দরিদ্র এলাকায় পশু কোরবানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। দ্রুত বন্যার উন্নতি ঘটবে, সিলেট ও মৌলভীবাজারে ফিরবে স্বাভাবিক পরিবেশ এমনটা প্রত্যাশা মানুষের।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft