প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মে, ২০২২, ১২:০২ পিএম

এমদাদুল হক (৩১) হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের লোকজন ছাড়াও আশপাশের মানুষকে মারধর করতেন। অনেক সময় বাড়িঘরে ঢিল ছোড়াসহ সামনে যা পেতেন তা ভাঙচুর করতেন। টাকার অভাবে ভালভাবে চিকিৎসার করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তার বৃদ্ধ মা তাকে শিকলে বন্দি করে রাখেন। চার বছর ধরে বন্দি এমদাদুল হকের বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ি গ্রামে।
দিনমজুর বাবা রিয়িজুল হক গত ১০ বছর আগে মারা যান। এমদাদুল হক পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও দরিদ্রতার কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেনি। বৃদ্ধা মা তমর্জিনা বেগম বলেন, অভারের কারণে এমদাদুল হক অন্যের জমিতে শ্রমকের কাজ করতেন।
বিয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সে জন্য সংসার আর স্থায়ী হয়নি। বৃদ্ধা মা তমর্জিনা বেগম মানুষের বাড়িত কাজ ককে কোনরকম দু’বেলা খাবার খায়। টাকার অভাবে এমদাদুল হকের চিকিৎসা হচ্ছে না। শিকলে বন্দি জীবন কাটলেও কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি। এমনকি মেলেনি কোন সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা।
এলাকাবাসী,বলেন ৬ ভাইয়ের মধ্যে এমদাদুল হক সবার ছোট। ভাইয়েরা দিনমজুরীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বিয়ের পর ভাইয়েরা সবাই আলাদা সংসার করছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে এমদাদুলকে নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের বসবাস।
নিজের বাড়ি ভিটার কয়েক শতাংশ জমি ছাড়াই কিছুই নেই তাদের। চার বছর ধরে শিকলবন্দি এমদাদুল। তাকে দেখাশোনা করতে হয় তার বৃদ্ধা মাকে। বৃদ্ধা মায়ের পক্ষে সন্তানকে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। তাই দিন দিন এমদাদুল আরও অসুস্থ হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো তিনি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিক রায় বলেন, এমদাদুল হককে প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তার হাতে পরিচয়পত্র তুলে দেওয়াসহ ভাতা কর্মসূচির আওতায় অন্তভূক্ত করা হবে। এ ছাড়া তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করা হবে।