গলাচিপায় বিয়ের ৩ মাসের মাথায় গৃহবধূ রুমানা আক্তার (১৯)কে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও তার স্বজনরা পালিয়ে গেছে। হাসপাতাল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের চত্রা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় গৃহবধূ রুমানা’র মা সাজেদা বেগম বাদী হয়ে জামাতা বেল্লাল হাওলাদার, শ্বশুড় শহিদুল হাওলাদার, দেবর টিপু ফেরদাউস, শাশুড়ি ঝরনা বেগম ও ননদ সীমা বেগমকে আসামী করে গলাচিপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গৃহবধূর শ্বাশুড়ি ঝরনা বেগম, দেবর টিপু ফেরদাউস ও ননদ সীমা বেগমকে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই ডাকুয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করেছেন। এ ঘটনায় আজ বুধবার বেলা ১টায় থানায় প্রেস ব্র্রিফিং করেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম।
এদিকে গৃহবধূ রুমানার মৃত্যুর খবর পেয়ে রুমানার মা-বাবা ও স্বজনরা গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। কিন্তু স্বামীর বাড়ির কোন লোকজন নেই। রুমানার মায়ের অভিযোগ, বিকেল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যে কোন সময় রুমানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের চত্রা গ্রামের শহিদুল হাওলাদারের ছেলে বেল্লাল হাওলাদারের (২৮) সাথে দশমিনা উপজেলার পশ্চিম আলীপুরা’র বাবুল হাওলাদারের মেয়ে রুমানা বেগমের (১৯) বিয়ে হয়। প্রথমে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই গৃহবধূ রুমানা’র সাথে তার স্বামী ও স্বামীর পরিবারের লোকজন খারাপ আচরণ করে। সংসারের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রায়ই রুমানাকে স্বামী, শ্বশুড়, শাশুড়ি, দেবর ও ননদ মারধর করত।