ভারতীয় ঋণ বাতিল, হাসপাতাল হবে সরকারি অর্থায়নে
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২, ১০:১৩ পিএম

৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের জুনে। কিন্তু কোনো কাজই করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা। কারণ, ভারতের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ভারতের ঋণ থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগমের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ফাইভ হান্ড্রেড (৫০০) বেডেড হসপিটাল অ্যান্ড এনসিলারি ভবন ইন যশোর, কক্সবাজার, পাবনা ও আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ এবং জননেতা নুরুল হক আধুনিক হাসপাতাল, নোয়াখালী (প্রথম সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় ঋণের ফাঁদে পড়ে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রকল্পটি!

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটির ‘শূন্য’ অগ্রগতি নিয়ে প্রথম সংশোধনের জন্য প্রস্তাব পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রকল্পটির ওপর মূল্যায়ন কমিটির সভা করে পরিকল্পনা কমিশন। সভায় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) কিছু খাত সংশোধন করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর জন্য বলা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় এক বছর পর। ততক্ষণে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

পুনর্গঠিত আরডিপিপিতে কতিপয় নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তিসহ ভারতীয় ঋণ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে তিন বছরের প্রকল্পটির বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ০.১১ শতাংশ সংশোধনী প্রস্তাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে। তবে, সম্প্রতি প্রকল্পটির ওপর আবারও পরিকল্পনা কমিশন পিইসি সভা করে। সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানায়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দাবি, হাসপাতালের কাজের মানের সঙ্গে কোনো কম্প্রমাইজ করা হবে না। শিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে হবে। বেশি কাজ করার প্রয়োজন নেই। তবে ঠিকাদার যেন চুক্তির চেয়ে কম কাজ না করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। হাসপাতালগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে সাশ্রয় হবে জায়গার। এতে ভবন নির্মাণে ব্যয়ও কমে আসবে এবং হাসপাতালের খালি জায়গায় অধিক সংখ্যক বৃক্ষরোপণ করে সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব হবে। ভারসাম্য বাড়বে পরিবেশের।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের উপ-প্রধান (স্বাস্থ্য উইং) ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্পটি সংশোধন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। ঋণে ভারতের কিছু শর্ত ছিল, সেটা পূরণ হয়নি। প্রকল্পটি এখন সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবনা নিয়ে সামনে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft