গাইবান্ধায় শিকলে বাঁধা বাবা-মেয়ে
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২, ২:১৫ পিএম আপডেট: ৩০.০৩.২০২২ ৮:৩৮ এএম



সাত বছর ধরে গাইবান্ধার উত্তর আনালেরতাড়ি গ্রামে মানসিক প্রতিবন্ধী বাবা মোহাম্মদ আলী ও মেয়ে রেহানা আখতার টুলিকে লোহার শিকলে বেঁধে রেখেছেন গ্রামবাসী ও পরিবারের লোকজন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না পরিবার। তাদের চিকিৎসা সাহায্যে এগিয়ে আসেননি কেউ। এমনকি তাদের ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতাও। পরিবারের দাবি চিকিৎসা পেলে তারা ফিরে পেতে পারেন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন। গাইবান্ধার উত্তর আনালেরতাড়ি গ্রামে দেখা যায়, চার দেয়ালে আবদ্ধ কক্ষে নয়,একটি টিনের চালার দু’পাশে দু’টি গাছে তালায় শিকল লাগিয়ে তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে। পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ছেড়ে দিলেই বাবা একদিকে ভাঙচুর শুরু করে আর মেয়ে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে। 

আনালেরতাড়ি গ্রামের রাজা মিয়া বলেন, মোহাম্মদ আলী ও তার মেয়ে রেহানা আখতার টুলিকে লম্বা লোহার শিকল পায়ে বেঁধে গাছের সঙ্গে তালা আটকে রাখা হয়েছে। তবু তাদের মুখে হাসি লেগে থাকে। মোহাম্মদ আলী ভালোই ছিলে। তিন সন্তান ও স্ত্রী হালিমা খাতুনকে নিয়ে তাদের ৫ জনের সংসার। মেয়ে রেহানা আকতারের প্রাইমারি পর্যন্ত পড়ালেখা। তার বর্তমান বয়স ২০ বা ২১ এর বেশি নয়। 

বয়স যখন ১২ বছর তখন হঠাৎ করেই তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। বাড়ি থেকে বের হয়ে যেদিক খুশি চলে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক দিন খুঁজে গাইবান্ধা রেল স্টেশন থেকে ধরে নিয়ে আসে। একজন যুবতী মেয়ের এভাবে বাইরে ঘুরে বেড়ানো বিপজ্জনক। বাধ্য হয়েই তার পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়।

 প্রথম দিকে মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে গ্রাম্য ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা করা হয়। তাতে অবস্থার উন্নতি তো দুরের কথা আরও অবনতি হতে থাকে। মেয়ের এই অবস্থার মধ্যে হঠাৎ করে ২০০২ সালের শুরুর দিকে মোহাম্মদ আলীর মানসিক পরিবর্তন হতে থাকে। অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। লাঠি হাতে রাস্তা ঘাটে মানুষ দেখলেই মারতে যান। 

এ অবস্থায় স্ত্রী হালিমা খাতুনসহ তার পরিবারের লোকজন মেয়ে ও বাবাকে নিয়ে বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় বাবা-মেয়েকে পায়ে শিকল লাগিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। খোলাহাটি ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম হক্কানী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হয়েছে। এলাকার নাট্য ব্যক্তিত্ব জুলফিকার চঞ্চল বলেন, দীর্ঘদিন বেঁধে রাখার ফলে বাবা-মেয়ের হাতে-পায়ে ও শরীরে ঘাসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। 

বাবা-মেয়ের চিকিৎসার খরচ যোগাতে সামান্য ভিটেমাটি যা ছিলো বিক্রি করে এখন পরিবারটি নিঃস্ব। মাত্র দেড় শতক জায়গায় একটি ঘরে হালিমার সংসার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা জোটে তাই দিয়ে নিজেরা আধাপেট খেয়ে কষ্টে দিন কাটে। এই অমানবিক দৃশ্য দেখতে চাই না। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান সহযোগিতা করা আশ্বাস দেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft